
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পুলিশের হেফাজতে থাকা দুই ব্যক্তিকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শাসনাধীন পশ্চিমবঙ্গে অপরাধ দমনের নামে উত্তরপ্রদেশ বা আসামের এনকাউন্টার মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।
হত্যার শিকার একজন হলেন সামিউল শেখ, যাকে বিজেপি কর্মী সুজিত মণ্ডল হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করে আটক করেছিল পুলিশ।
পুলিশের দাবি, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন সামিউল। এ সময় তিনি এক পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেন। পরে পুলিশের দলকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে তিনি আহত হন। এরপর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে পুলিশের এসব দাবিকে বানোয়াট ও ‘সাজানো নাটক’ অভিহিত করে প্রত্যাখ্যান করেছেন বিরোধী কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ আগস্ট সুজিত মণ্ডল নিখোঁজ হয়। পরে একটি খাল থেকে সুজিতের দেহের কয়েকটি অংশ উদ্ধার করা হয়। এরপর তাকে হত্যার অভিযোগে সামিউল শেখসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অপরদিকে, রোববার উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় প্রহ্লাদ দাসকে আটক করা হয়। সোমবার (২৬ অক্টোবর) মধ্যরাতে এনকাউন্টারের নামে বিচার ছাড়াই প্রহ্লাদকে হত্যা করে পুলিশ।
এই ঘটনার ক্ষেত্রেও পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায়। এরপর পুলিশের পাল্টা গুলিতে তার মৃত্যু হয়।
দুটি ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলো। তাদের অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশে হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের শাসনাধীন বহুল আলোচিত বিচারবহির্ভূত হত্যার কৌশল এবার পশ্চিমবঙ্গেও অনুসরণ করা হচ্ছে।
উক্ত ঘটনাগুলোর ব্যাপারে পুলিশের দাবিকে ‘সাজানো এনকাউন্টার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন অনেক সমালোচক। তারা রাজ্যটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/yma7tdfk


