আসামের ধুবড়ি জেলায় মসজিদ-কবরস্থানসহ আরও ছয়শতাধিক মুসলিম পরিবারকে ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করল উগ্র হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন

0
0

গত ১ নভেম্বর আসামের ধুবড়ি জেলার গৌরীপুর রাজস্ব চক্রের অধীন আলমগঞ্জ পার্ট-৯ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে বিজেপি নেতৃত্বাধীন উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকার। প্রায় ৬৫০ বিঘা জমি দখলমুক্ত করার নামে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অর্ধশতাধিক বুলডোজার ও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।

উচ্ছেদে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৫০টির বেশি পরিবার, গৃহহীন হাজারো মুসলিম

উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। ধুবড়ি জেলা প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ৬৫০ বিঘা জমি থেকে প্রায় ৫৫০টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ৬৪০ থেকে ৭৫০ পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উক্ত উচ্ছেদ অভিযানের ফলে চার হাজারেরও বেশি মুসলমান বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

অভিযানে শুধু বসতবাড়িই নয়, মসজিদ ও কবরস্থানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ধর্মীয় স্থাপনার সামনে ক্রন্দন ও মোনাজাত

আলমগঞ্জে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একের পর এক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার সময় নারী-শিশুসহ বাসিন্দাদের কান্নাকাটি ও আল্লাহর কাছে মোনাজাত করতে দেখা যায়।

বিভিন্ন ভিডিওতে মসজিদে প্রার্থনারত মুসলমান এবং একটি মাজারের কাছে কান্নায় ভেঙে পড়া বাসিন্দাদের দৃশ্য উঠে এসেছে।

এ ঘটনায় বড় ধরনের মানবিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন শীতকালকে সামনে রেখে দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারগুলোর মাথা গোঁজার ঠাঁই হারানোর পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক পরিসরও ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বিষয়টি কেবল জমি বা বসতবাড়ি হারানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নিরাপত্তা, মর্যাদা, ধর্মীয় পরিচয় এবং নতুন করে জীবন শুরু করার অনিশ্চয়তা।

ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম

২০২১ সালে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি আসামে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিভিন্ন উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম।

সমালোচকদের অভিযোগ, প্রধানত মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় বারবার বুলডোজার অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। বাঙালি মুসলিমদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব নিয়ে বারংবার রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মুসলমানদের নিরাপত্তাহীনতার উদ্বেগ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভোটাধিকার নিয়েও উদ্বেগ

বসতবাড়ি হারানোর পাশাপাশি আসামের উচ্ছেদ হওয়া মুসলিম পরিবারগুলোর ভোটাধিকার নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

২০২৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত স্ক্রলের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, বাড়িঘর ভেঙে দেওয়ার পর বাস্তুচ্যুত বাঙালি মুসলিমদের একটি বড় অংশ ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম ধরে রাখা কিংবা পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েছেন।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, উচ্ছেদের কারণে তাদের স্থায়ী ঠিকানা ও বসবাসের প্রমাণসংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফলে ভোটার নিবন্ধন বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে, ২০২৬ সালের ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধনসংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচও বিভিন্ন অনিয়ম, যথাযথ প্রক্রিয়ার অভাব এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দিতে একযোগে আপত্তি জানানোর ঘটনাও তুলে ধরেছে।


তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/2ja4ty7e

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধকৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে কাবুলে ৩৫তম কৃষি ও প্রাণিসম্পদ পণ্যমেলার আয়োজন