
২ মার্চ ভারতে রাজস্থানের ভিওয়াড়ি এলাকায় এক মুসলিম তরুণ পিকআপ চালক উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে হত্যার শিকার হয়েছে। ভুক্তভোগীর নাম আমির, বয়স ২৮ বছর। সে রাজস্থানের হরিয়ানা পাল্লা গ্রামের বাসিন্দা।
গরু পাচারকারী সন্দেহে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোরক্ষক ও বজরং দলের সদস্যরা তাকে খুন করেছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
ভুক্তভোগীর এক চাচা জানান, আমির তার পিকআপ ট্রাকে প্রতিদিনের মতো কাজ সারতে গিয়েছিল। উগ্র হিন্দুত্ববাদী বজরং দল ও গোরক্ষকরা তাদের গাড়ি দ্বারা আমিরের পিকআপে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা দেয়। উগ্রবাদীরা পিকআপটি থামায়, কোনও কথাবার্তা ছাড়াই তারা আমিরের মাথায় গুলি করে তাকে হত্যা করে।
তার পরিবারের সদস্যরা জোর দিয়ে বলেন, কোনও গবাদি পশু ব্যবসার সাথে তার আমির সম্পৃক্ত ছিল না, বরং তিনি তার পিকআপে সাধারণত শাকসবজি বহন করতেন। গরু চুরি বা বহনের সাথে তার কোনও প্রকার সম্পর্ক নেই।
পরিবারের অভিযোগ, এই উগ্রবাদীরা মুসলিমদের হেনস্থা করতে তাদেরকে গরু পাচারকারী আখ্যা দেয় এবং হত্যা করে।
পরিবারের দাবি, আমিরকে মুসলিম পরিচয়ের কারণেই হত্যা করা হয়েছে, গরু পাচারের অভিযোগ কেবল একটি অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে। এলাকার অন্যান্য মুসলিমরাও প্রায়ই এই ধরনের হেনস্থার শিকার হচ্ছেন।
অপরদিকে পুলিশ প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে চেষ্টা করছে। পুলিশের বানোয়াট বর্ণনায় দেখানো হয়েছে, সারে কালা গ্রামে গরু বহনকারী একটি পিকআপকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে পাথর ছোঁড়াছুড়ি হয়। সেখানে আমির নামে যুবক আহত হয়, পরবর্তীতে হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
নিহতের চাচা বলেন, এই হত্যাকান্ড বজরং দল ও আরএসএস এর স্বৈরাচারী মনোভাবের ফল। প্রশাসন তাদের কথামত চলে, সরকারও একই ধরনের কাজ করে। আমাদের কেবল জীবনটাই অবশিষ্ট রয়েছে, তারা আমাদের জীবন কেড়ে নিতে চায়।
তিনি মুসলিমদের দৈনন্দিন দূর্ভোগের কথা বর্ণনা করে বলেন, আপনি বসে থাকুন বা দাঁড়িয়ে থাকুন, তারা আপনাকে মারধর করবে। আপনি যদি মাংস কিনেন, তারা অভিযোগ করবে এটি গরুর মাংস, অতঃপর আপনাকে তারা নিপীড়ন করবে। এভাবেই চলছে।
নিহত আমির তার স্ত্রী-সন্তান, পিতা-মাতা ও বোনের ভারণপোষনের জন্য পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিল। তার একটি সন্তান আছে, মৃত্যুকালে তার স্ত্রী ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। আগামী মাসে তার ছোট বোনের বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।
রাজস্থানের আলওয়ার জেলায় গোরক্ষকদের সহিংসতায় এই ধরনের হত্যাকান্ড নতুন কিছু নয়। এর আগে ২০১৭ সালে দুগ্ধ খামারি পেহলু খানকে একই ধরনের অভিযোগ এনে হত্যা করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে একই জেলায় রাকবর খানকে গবাদি পশু পরিবহনের সময় উগ্রবাদীরা নির্মম মারধর করে। ২০২৩ সালে জুনায়েদ ও নাসির নামে হরিয়ানার দুই বাসিন্দাকে রাজস্থানে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে হত্যা করা হয়।
উগ্র হিন্দুত্ববাদী দলগুলো গোরক্ষার নামে মুসলমানদের টার্গেট করে এভাবেই হত্যা করে যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/y9ktthfe


