রংপুরে ভারতীয় নাগরিকদের দেয়া হয়েছে বাংলাদেশি জন্মসনদ, অভিযোগ দেয়া হলেও আমলে নেয়নি দুদক

0
17

রংপুরের বদরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র উত্তম কুমার সাহা ক্ষমতায় থাকাকালে ভারতীয় নাগরিক দুই সহোদরকে অবৈধভাবে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে জন্মসনদ প্রদান করেছে। একই সঙ্গে তাদের মায়ের জন্যও মৃত্যুসনদ ইস্যু করে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় পৌর বাসিন্দা প্রদীপ কুমার সাহা গত বছরের ১২ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রংপুর জেলা কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এর আগে ২০২৩ সালের ২৮ জুন একই ধরনের আরেকটি অভিযোগ করা হয়। কিন্তু একটি অভিযোগেরও সঠিক তদন্ত হয়নি বলে জানান অভিযোগকারীরা।

১৯৯৯ সালে বদরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদকে পৌরসভায় উন্নীত করে গেজেট প্রকাশ করা হয় এবং ২০০০ সাল থেকে এর কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর আওয়ামী লীগের প্রভাববলয়ে উত্তম কুমার সাহা পৌর প্রশাসক থেকে শুরু করে চারবারের নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। তার দায়িত্বকালে পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্য এবং আর্থিক দুর্নীতি করে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে বদরগঞ্জ পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দেখিয়ে রাজ কুমার নামের এক ব্যক্তির দুই ছেলে মনোজ কুমার সাহা (ওরফে রানা) এবং রাজীব কুমার সাহার নামে জন্মসনদ ইস্যু করা হয়। এ দুই সহোদরের জন্ম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাকপুর এলাকায়। সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা তারা। তাদের কাছে ভারতীয় পাসপোর্ট রয়েছে এবং তারা বর্তমানে ভারতের নাগরিক হিসেবে বসবাস করছে। অভিযোগকারীরা জানায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভারতীয় পরিচয়, ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য দুদকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুদক বিষয়টি আমলে নেয়নি।

শুধু জন্মসনদ নয়, ওই দুই সহোদরের মা আরতী রাণী সাহার মৃত্যুসনদ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, আরতী রাণী সাহা ভারতের কলকাতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। অথচ একই তারিখ উল্লেখ করে ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি বদরগঞ্জ পৌরসভা থেকে তার নামে একটি মৃত্যুসনদ ইস্যু করা হয়। অভিযোগকারীর ভাষ্য, এটি একটি পরিকল্পিত জালিয়াতি, যার মাধ্যমে সম্পত্তিসংক্রান্ত কার্যক্রম সহজ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজকুমার সাহার বদরগঞ্জ পৌর শহরের কেন্দ্রস্থলে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য শতকোটি টাকারও বেশি হতে পারে। এসব সম্পত্তির মালিকানা নিশ্চিত করতে প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় জাল জন্ম ও মৃত্যুসনদ সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে সাবেক মেয়রের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল বলেও উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, উত্তম কুমার সাহা একজন দুর্নীতিবাজ মেয়র ছিল। তার দায়িত্বকালে পৌরসভায় বহু অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। এসব বিষয় এতদিন চাপা পড়ে ছিল। কিন্তু এখনো তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি আরো দাবি করে, গোপনে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত করারও চেষ্টা করা হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা কেবল একটি পৌরসভার প্রশাসনিক অনিয়ম নয়; বরং জাতীয় নিরাপত্তা এবং নাগরিক সনদ ব্যবস্থার জন্যও বড় ধরনের হুমকি হতে পারে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেন।


তথ্যসূত্র:
১। ভারতীয় নাগরিকেরা পেয়েছেন বাংলাদেশি জন্মসনদ
– https://tinyurl.com/5n8uvjbz

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিজয় আসবে আল্লাহ’র সাহায্যে, অতঃপর আসবাব হিসেবে দাওয়াত ও কিতালের সাথে সঠিক স্ট্র‍্যাটেজি অনুসরণের মাধ্যমে
পরবর্তী নিবন্ধমালির উত্তরাঞ্চলীয় কিদাল শহরে জেএনআইএম মুজাহিদদের শোডাউন