বিজয় আসবে আল্লাহ’র সাহায্যে, অতঃপর আসবাব হিসেবে দাওয়াত ও কিতালের সাথে সঠিক স্ট্র‍্যাটেজি অনুসরণের মাধ্যমে

0
43

‎আল ফিরদাউস এর সম্পাদক মুহতারাম ইবরাহীম হাসান হাফিযাহুল্লাহ’র কলাম

ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আজ আমরা মালির জমিনে ইসলামের বিজয়কেতন উড়তে দেখছি। রাজধানী বামাকোর পতন আজ সময়ের ব্যাপার মাত্র, আর এই বিজয় কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং এটি মহান আল্লাহর প্রত্যক্ষ নুসরাত এবং আসবাব হিসেবে দাওয়াত ও কিতালের সাথে সঠিক স্ট্র‍্যাটেজির এক নিখুঁত ও ভারসাম্যপূর্ণ সমন্বয়ের ফসল। মালির বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের সামনে এক জীবন্ত পাঠ্যপুস্তক হিসেবে উন্মোচিত হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে আসমানি মদদ তখনই অবতীর্ণ হয়, যখন জমিনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশিত পথ ও পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

‎এই বিজয়ের প্রথম এবং প্রধান স্তম্ভ হলো আল্লাহর সাহায্য (নুসরত)। জামা’আত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) মুজাহিদিনরা যখন দুনিয়ার সমস্ত পরাশক্তির রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে কেবল আরশের অধিপতির ওপর তাওয়াক্কুল করেছেন, তখনই অসম্ভব সম্ভব হয়েছে। যখন মালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং গোয়েন্দা প্রধানের মতো সুরক্ষিত ব্যক্তিরা আল্লাহর হুকুমে নিকেশ হয়, তখন মুমিনরা চাক্ষুষ উপলব্ধি করে যে—বিজয় কোনো ড্রোন, ট্যাংক বা সামরিক বাজেটের অধীন নয়; বরং বিজয় একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। কিন্তু এই সাহায্য অর্জনের জন্য তারা আসবাব হিসেবে যে পথটি বেছে নিয়েছেন, তা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ধারায় বিভক্ত।

‎প্রথমত, দাওয়াত। যুদ্ধের ময়দানে তলোয়ার চালানোর আগে মুজাহিদিনরা মানুষের অন্তরে ঈমানের মশাল জ্বালিয়েছেন। দাওয়াতের মাধ্যমে তারা সাধারণ জনগণের আকিদাকে পরিশুদ্ধ করেছেন এবং তাগুতের গোলামি থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর দাসত্ব করার আহ্বান জানিয়েছেন। এই দাওয়াতি তৎপরতার ফলেই আজ রাজধানীর চারপাশের জনপদ মুজাহিদিনদের জন্য শত্রুঘাঁটি না হয়ে বরং নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। জনসমর্থনহীন কোনো আন্দোলন কখনো সফল হয় না, আর মুজাহিদিনরা দাওয়াতের মাধ্যমে সেই জনভিত্তি তৈরি করেছেন।

‎দ্বিতীয়ত, কিতাল। যখন দাওয়াতের পথে শয়তানি শক্তি অস্ত্র হাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন মুজাহিদিনরা কিতালের মাধ্যমে সেই বাধা উপড়ে ফেলেছেন। শাহাদাতের তামান্নায় বিভোর এই কাফেলা প্রমাণ করেছে যে, কিতাল কেবল রক্তপাত নয়, বরং এটি ফিতনা দূর করে দ্বীনকে বিজয়ী করার এক পবিত্র ইবাদত। শহর থেকে শহরে তাদের এই বীরত্বপূর্ণ অভিযান বাতিলের অন্তরে এমন ত্রাস সৃষ্টি করেছে যে, আজ রাজধানীর সুরক্ষাপ্রাচীর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে।


‎তৃতীয়ত, সঠিক স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ। জেএন‌আইএম মুজাহিদিনরা কেবল আবেগ দিয়ে নয়, বরং গভীর সামরিক প্রজ্ঞা দিয়ে যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন। রাজধানীকে সরাসরি আক্রমণ না করে চারদিক থেকে অবরোধ করা, শত্রুর গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা এবং শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্যবস্তু বানানো—তাদের এই নিখুঁত রণকৌশল মূলত শরিয়ত নির্দেশিত ‘আসবাব’ গ্রহণেরই অংশ।

‎অনেক অবুঝ জিহাদি সংগঠনের মতো কেবল জজবা দিয়ে নয়। বরং বাস্তবতা, নিজেদের ও শত্রুর সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে তারা আজ এই অবস্থানে এসে দাড়িয়েছেন। শরিয়তের পাবন্দ, আমিরের আনুগত্য, হিকমতের সুনিপুণ ব্যবহার, জজবার উপর বাস্তবতাকে প্রাধান্য দেওয়া ইত্যাদি উত্তম স্ট্র‍্যাটেজির মাধ্যমে আজকে ইনশাআল্লাহ আমরা নতুন এক ইসলামি ইমারাহ পাওয়ার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।

‎মালির এই বিজয় আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, কেবল ঘরে বসে দুয়ায় বিজয় আসে না, আবার কেবল রণকৌশলে বিজয় নিশ্চিত হয় না। বিজয় আসে তখন, যখন আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল রেখে দাওয়াত ও কিতালের ময়দানে সঠিক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া হয়। মালির আকাশে আজ যে বিজয়ের সূর্য উদিত হচ্ছে, তা মূলত ঈমান ও হিকমতের সেই চিরন্তন মেলবন্ধনেরই ফসল।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস: ২০২৬ সালে চার শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের অর্থনীতি
পরবর্তী নিবন্ধরংপুরে ভারতীয় নাগরিকদের দেয়া হয়েছে বাংলাদেশি জন্মসনদ, অভিযোগ দেয়া হলেও আমলে নেয়নি দুদক