
হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা ঢলে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ধানের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। পাকা ধান এক রাতেই কোমর পানিতে ডুবে যাওয়ায় হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। শ্রম-ঘাম আর উচ্চব্যয়ে ফলানো ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে কৃষকদের এখন মাথায় হাত।
বিশেষ করে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলা সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা এবং মৌলভীবাজারের হাওর এলাকায় পাকা ও আধাপাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। পানির নিচ থেকে ধান কাটতে গিয়ে কৃষকের চোখের পানি আর ঢল-বৃষ্টির পানি একাকার হয়ে যাচ্ছে। কালবৈশাখীতেও অনেক এলাকায় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বৃষ্টির প্রভাব আরো কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এতে কৃষকের দুশ্চিন্তা আরো বাড়ছে। কারণ, পাকা ধান শুকানোর সুযোগ না থাকায় পচনের ঝুঁকি বাড়বে। তাই বলা যায়, বোরোর ভরা মৌসুমে এমন আকস্মিক বন্যায় কৃষকরা অনেকটা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। এতে চলতি বছরের খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা।
দৈনিক আমার দেশের প্রতিবেদনে জানা যায়, গত কয়েক দিনে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত এবং ভারত থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, অন্তত চারটি নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে হাওর ও বিল এলাকার বিশাল ফসলি জমি ডুবে গেছে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও আকস্মিক বন্যায় তা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেক কৃষক শেষ সম্বল হিসেবে ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কিন্তু হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, টানা বৃষ্টিতে কাটা ধান শুকানো যাচ্ছে না। ফলে উৎপাদিত ধানের মান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। শ্রমিক সংকট, যন্ত্রপাতি ব্যবহারের অনুপযোগী পরিবেশ এবং দুর্বল পানি নিষ্কাশনব্যবস্থাও পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।
তথ্যসূত্র:
১। টানা বৃষ্টিতে বোরোর ব্যাপক ক্ষতি, কৃষকের মাথায় হাত
- https://tinyurl.com/ydmdw46t


