
আঞ্চলিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সম্পর্কের সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক কূটনৈতিক আস্থা জোরদারে বিভিন্ন আঞ্চলিক বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ইমারাতে ইসলামিয়ার মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ হাফিযাহুল্লাহ। তিনি বলেছেন, আফগান জনগণের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং অঞ্চলের ভবিষ্যৎ-সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা ও উদ্যোগে অংশগ্রহণের স্বার্থে আফগানিস্তানের সকল আঞ্চলিক বৈঠকে উপস্থিত থাকা প্রয়োজন।
টোলোনিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ হাফিযাহুল্লাহ বলেন, ইমারাতে ইসলামিয়া এসব বৈঠকে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী এবং সেখানে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও নীতিনির্ধারণী দিকনির্দেশনায় আফগানিস্তানের অবস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাঁর ভাষায়, আফগানিস্তানের অবস্থান বিবেচনায় নেওয়া হলে এসব বৈঠকের কার্যকারিতা যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোও অধিকতর সুফল অর্জন করতে সক্ষম হবে।
এদিকে আফগানিস্তানের অর্থনীতি মন্ত্রণালয় বলেছে, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে আফগানিস্তানের অংশগ্রহণ ছাড়া আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে পরিচালিত আলোচনা পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘস্থায়ী ফলাফল বয়ে আনতে পারে না। মন্ত্রণালয়ের পেশাগত বিষয়ক উপমন্ত্রী আব্দুল লতিফ নজারি হাফিযাহুল্লাহ বলেন, বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আফগানিস্তানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। তাঁর মতে, আফগানিস্তান এবং প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বিদ্যমান। তাই ইমারাতে ইসলামিয়ার প্রতিনিধিদের সকল আঞ্চলিক বৈঠকে উপস্থিত থাকা প্রয়োজন, যাতে একদিকে আফগানিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গি আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছে তুলে ধরা যায় এবং অন্যদিকে দেশটি আঞ্চলিক অগ্রগতি ও পরিবর্তন সম্পর্কে অবগত থাকতে পারে।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও আফগানিস্তানের অংশগ্রহণের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক সামিউল্লাহ আহমদজাই বলেন, ইমারাতে ইসলামিয়ার অংশগ্রহণ ছাড়া অনুষ্ঠিত কোনো বৈঠক প্রত্যাশিত ফলাফল দিতে সক্ষম হবে না। কারণ আঞ্চলিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সরাসরি আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং সেগুলো নিয়ে কার্যকর আলোচনা দেশটির সম্পৃক্ততা ছাড়া সম্ভব নয়।
এমন সময় এসব মন্তব্য সামনে এলো, যখন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা টাস জানিয়েছে যে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (SCO), স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের কমনওয়েলথ (CIS) এবং সমষ্টিগত নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থা (CSTO) চলতি বছরের শেষ দিকে মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তা ও আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে একটি যৌথ বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তানকে ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় দেশটির সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এ ধরনের উদ্যোগের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে।
তথ্যসূত্র
1. Mujahid Calls for Afghanistan’s Inclusion in All Regional Meetings
– https://tinyurl.com/mr2wstcf


