
ভেনেজুয়েলায় দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার তিন দিন পার হলেও এখনো ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে ব্যাপক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৩০ জনে পৌঁছেছে। এ ছাড়া ৫১ হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
এর আগে গত ২৪ জুন, বুধবার দেশটির উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চলে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে ওই অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় এলাকাটিকে ইতিমধ্যে দুর্যোগকবলিত ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
উদ্ধারকাজে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটায় ২৬ জুন, শুক্রবার রাত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটিতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। সরকারি উদ্ধার অভিযানে নানা সংকটের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিজেদের স্বজনদের উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহায়তাকারী সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, ভূমিকম্পের পর জীবিত উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা দ্রুত শেষ হয়ে আসছে।
২৭ জুন, শনিবার জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় সরাসরি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৪ দশমিক ৭ থেকে ৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এরই মধ্যে গতকাল দেশটির আরাগুয়া রাজ্যে ৪ দশমিক ৮ মাত্রার আরেকটি নতুন ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে এতে নতুন করে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখনো কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের একটি বড় অংশ মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় তাদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, রাজধানী কারাকাসসহ প্রায় ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ এই ভয়াবহ দুর্যোগের কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
তথ্যসূত্র
1. Venezuelans dig for earthquake survivors as death toll rises to 1,430
– https://tinyurl.com/2fwekhmc


