
একসময় বিশ্বে অবৈধ মাদক উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত আফগানিস্তানে মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের নজির স্থাপন করেছে ইমারাতে ইসলামিয়া প্রশাসন। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক দপ্তর (UNODC)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমারাতে ইসলামিয়ার পপি চাষ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের পর দেশটিতে পপি চাষ ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। একই সঙ্গে আফিম উৎপাদনও কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপকভাবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২২ সালে আফগানিস্তানে যেখানে ২ লাখ ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে পপি চাষ হতো, ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০ হাজার ২০০ হেক্টরে। একই সময়ে আফিম উৎপাদন ৬ হাজার ২০০ মেট্রিক টন থেকে নেমে এসেছে মাত্র ২৯৬ মেট্রিক টনে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, এটি আফগানিস্তানে কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন আফিম উৎপাদনের রেকর্ড।
UNODC-এর গবেষণা ও প্রবণতা বিশ্লেষণ শাখার প্রধান ক্লোই কার্পেন্টিয়ার বলেন, ২০২২ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় হেরোইন উৎপাদনকারী দেশ। তবে ইমারাতে ইসলামিয়ার পপি চাষ ও মাদক উৎপাদন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর ২০২৩ সাল থেকে দেশটিতে আফিম উৎপাদন ৯৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী আফিম উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
এদিকে ইমারাতে ইসলামিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল মতিন কানি বলেছেন, মাদক নির্মূল শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নয়; এটি একটি সর্বাত্মক সামাজিক, ধর্মীয় ও নৈতিক আন্দোলন। তিনি বলেন, দেশ থেকে মাদকের সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত ইমারাতে ইসলামিয়ার অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, এর আগেও রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সচিব সের্গেই শোইগু প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন যে, মাদক নির্মূলে ইমারাতে ইসলামিয়া তাদের দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সফল হয়েছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ এই প্রতিবেদন সেই সাফল্যকেই আরও একবার আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরেছে।
তথ্যসূত্র
1. UNODC: Poppy Cultivation in Afghanistan Down 95% Since Ban
– https://tinyurl.com/4smjpkuj


