
ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চলমান নির্যাতন ও দমন-পীড়নের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নীরব ভূমিকার সমালোচনা করে ইমারাতে ইসলামিয়ার তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী শের আহমদ হাক্কানি হাফিযাহুল্লাহ বলেছেন, এসব সংস্থা একদিকে ফিলিস্তিনের মানবিক বিপর্যয়ের বিষয়ে নীরব থাকলেও অন্যদিকে আফগানিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভিত্তিহীন দাবি ও গুজব ছড়িয়ে যাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আফগানিস্তানে মানবাধিকার যথাযথভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে। আর এসকল সংস্থার বাস্তবতার পরিবর্তে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বর্ণনা প্রচার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
১ জুলাই, বুধবার কাপিসা প্রদেশে সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত একদিনব্যাপী সক্ষমতা বৃদ্ধি সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে শের আহমদ হাক্কানি হাফিযাহুল্লাহ বলেন, যারা নিজেদের মানবাধিকারের রক্ষক বলে পরিচয় দেয়, তাদের অবস্থান হওয়া উচিত ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ফিলিস্তিনে চলমান বর্বরতা, নিরীহ নারী-শিশু হত্যা এবং মানবিক বিপর্যয়ের সময় এসব সংস্থা কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ, অপপ্রচার ও গুজব ছড়াতে তারা বরাবরই সক্রিয়।
তিনি বলেন, আফগানিস্তানে মানবাধিকার যথাযথভাবে রক্ষা করা হচ্ছে। বাস্তব পরিস্থিতি উপেক্ষা করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা সত্যের বিকৃতি ছাড়া আর কিছুই নয়।
তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংবাদ প্রকাশে সততা, নির্ভুলতা ও দায়িত্বশীলতা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি বলেন, গণমাধ্যম যেন অনৈতিক, বিভ্রান্তিকর ও মূল্যবোধবিরোধী বিষয়বস্তুর প্রচার থেকে বিরত থেকে ইসলামী মূল্যবোধ, জাতীয় স্বার্থ ও জাতীয় ঐক্যকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। তিনি দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার জনগণের সামনে তুলে ধরতেও সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
সেমিনারে আফগান জাতির অদম্য মনোবলের কথাও তুলে ধরেন শের আহমদ হাক্কানি হাফিযাহুল্লাহ। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা বোমা হামলা বা কষ্টের ভয়ে ভীত নই। যারা আমাদের চেয়ে বহু গুণ উন্নত প্রযুক্তি ও অস্ত্র নিয়ে এই ভূমিতে এসেছিল, তারাও শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। আমরা কাউকে ভয় পাই না এবং কখনো পরাজয় মেনে নেব না।”
সেমিনারে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের আদর্শিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় শের আহমদ হাক্কানি হাফিযাহুল্লাহ দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে সত্য তুলে ধরা এবং দেশ ও জাতির স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে আহ্বান জানান।
তথ্যসূত্র
1. Minister of Information and Culture Sher Ahmad Haqqani, speaking at a one-day journalists’
– https://tinyurl.com/p8vep92k


