
আফগানিস্তানের পাকতিয়া, পাকতিকা ও কুনার প্রদেশে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের হতাহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ও নিন্দা জ্ঞাপন করেছে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং একাধিক আন্তর্জাতিক মানবিকতার সংস্থা। তারা পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের প্রধান ইয়ান এগেল্যান্ড বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, চলমান সংকটের একমাত্র কার্যকর সমাধান হলো সংলাপ। তিনি সব পক্ষকে সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান।
ইউনিসেফ জানিয়েছে, পাকিস্তানি হামলায় শহীদদের মধ্যে বহু শিশুও রয়েছে। সংস্থাটি পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, যেকোনো পরিস্থিতিতেই শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মৌলিক দায়িত্ব। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে আফগানিস্তানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল বলেছে, কোনো অবস্থাতেই বেসামরিক স্থাপনা ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালানোর বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে আফগানিস্তানে জাতিসংঘ সহায়তা মিশন (UNAMA) জানিয়েছে, তারা হামলার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে বিশেষভাবে সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি প্রতিরোধ করা যায়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন, রবিবার রাতে পাকিস্তানি বিমান হামলায় পাকতিয়া, পাকতিকা ও কুনার প্রদেশে ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক শহীদ এবং ১৬৩ জন আহত হয়েছেন। ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বেসামরিক প্রাণহানির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
তথ্যসূত্র
1. UN, EU, Aid Agencies Condemn Pakistani Airstrikes on Afghan Civilians
– https://tinyurl.com/2knytcc6

