বৌদ্ধ সন্ত্রাসী সু চির বক্তব্য নিয়ে রোহিঙ্গা শিবিরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

0
177

মিয়ানমারের নেত্রী সন্ত্রাসী অং সান সুচির মিথ্যা বক্তব্য নিয়ে কক্সবাজারের আশ্রিত রোহিঙ্গারা হতবাক হয়ে পড়েছেন। নেদারল্যান্ডসের হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে দাঁড়িয়ে গতকাল বুধবার সু চি যে বক্তব্য দিয়েছে, এর আগাগোড়াই মিথ্যা বলে দাবি করেছেন রোহিঙ্গারা।

মিথ্যাবাদী সু চির এমন বক্তব্য নিয়ে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর চা দোকান, হাট-বাজারসহ বস্তিতে বস্তিতে রোহিঙ্গারা একে অন্যের কাছে ব্যক্ত করছেন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া।

কুতুপালং শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা সিরাজুল মোস্তফা গত রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অং সান সু চি একটা ডাহা মিথ্যাবাজ নারী। সে কিভাবে বলে যে রাখাইনে বৌদ্ধ ও সেনারা আমাদের রোহিঙ্গা নারীদের গণধর্ষণ করেনি?’

রোহিঙ্গা নেতা সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ২০১৮ সালের ২ জুলাই বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘ মহাসচিব রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছিল। সেদিন মিয়ানমারের সেনা ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের হাতে গণধর্ষণের শিকার হওয়া কয়েক ডজন রোহিঙ্গা নারীর সঙ্গে তাঁরা একান্তে আলাপ করেছে। এমনকি রাখাইনে ২০১৭ সালের আগস্টে সেনা অপারেশনের সময় নির্যাতনের শিকার হওয়া এসব নারী কক্সবাজারের শিবিরে আশ্রয় নেওয়ার পর প্রসব করা শিশুদেরও দেখান।

অপরাধ কিছু হয়েছে কিন্তু জেনোসাইড হয়নি—মিয়ানমারের এমন বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছেন রোহিঙ্গারা। উখিয়ার কুতুপালং ৭ নম্বর শিবিরের বি-ব্লকের বাসিন্দা সৈয়দ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি বর্তমানে যে বস্তিতে বসবাস করছি সেখানেই রয়েছে জোহরা বেগম (১৫) এবং খাইরুল আলম (১১) নামের দুই হতভাগ্য ভাই-বোন। রাখাইনের তুলাতলী গ্রামের এই হতভাগ্য ভাই-বোন একই পরিবারের ১৪ জনকে চিরতরে হারিয়ে এখানে পালিয়ে এসেছেন। ’

সৈয়দ আলম বলেন, সেই তুলাতলী গ্রামের মোহাম্মদ শফি ও হাবিবা বেগম দম্পতির পরিবারের ১৬ সদস্যের মধ্যে মাত্র দুজন প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।

অন্য ১৪ জনকেই গুলি, দায়ের কোপ এবং আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। সন্ত্রাসী মিয়ানমার সেনাদের হাতে কেবল তুলাতলী গ্রামেরই সাত শতাধিক রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে প্রায় ৪০ হাজার এতিম সন্তান রয়েছে। এসব এতিম সন্তানের মা-বাবা, ভাই-বোন কেউই আর বেঁচে নেই।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন