সরকারি ‘মূর্খতা’ জনগণকে আর কত দেখতে হবে

1
790
সরকারি  ‘মূর্খতা’ জনগণকে আর কত দেখতে হবে

বাংলাদেশে যে করোনা আসতে পারে তা আগেই বুঝতে পেরেছিল আমজনতা।আর সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যাপারে যেতেহু মনে করা হয় পরীক্ষায় অনেককে হারিয়ে ঐ চাকরি পেয়েছেন তাই আমজনতার চেয়ে তাঁরা বুদ্ধিমান, এটা ধরে নেয়া যায়। ফলে করোনার আগমনি ধ্বণি তাঁদের আরো বেশি শুনতে পাওয়ার কথা। কিন্তু তাঁদের কিছু কাজকর্ম দেখে মনে হচ্ছে, করোনার বার্তা পেয়েও তাঁরা কোন ধরণের প্রস্তুতি না নিয়ে বসেছিলেন। খবর-ডয়চে ভেলে

বেশি উদাহরণে না গিয়ে কিছু বিষয়ের কথা বলা যায়।

এক, সারাবিশ্বে যখন করোনাভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ছিল, তখন তাঁরা কোন ধরণের প্রস্তুতি না নিয়ে মুজিববর্ষের নামে মুজিবপূজার নানা আয়োজনের শিডিউল তৈরিতে ব্যস্ত ছিল।

দুই, ঐসময় মহামারী আক্রান্ত বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লোকদের কোনো প্রকার ট্রেসিং করা ছাড়াই দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ দিয়েছে সরকার। কোনো ধরণের গাইডলাইনই দেওয়া হয়নি বিদেশফেরত এসকল প্রবাসীদের। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে দাবানলের মতো যে করোনা ছড়িয়ে পড়বে, অজস্র মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়বে সেসব নিয়ে কোনো চিন্তাই করেনি লুটেরা সরকার। তাগুত সরকারের এরূপ দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের মূল্য দিতে হচ্ছে দেশবাসীকে।

তিন, স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করার সাথে সাথে গণপরিবহন বন্ধ না করে সরকারী ছুটি ঘোষণা করায় সিদ্ধান্তটি অদূরদর্শী ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে পরিণত হয়। ফলে ঢাকা থেকে করোনার ভয় নয় ঈদ উৎসবের ন্যায় জনগণ বাদুড়ঝোলা হয়ে গণপরিবহন চেপে বাড়ি গিয়েছে। এতে গত কয়েকদিন যাবত বাস, লঞ্চ ও ট্রেনে ছিল উপচে পড়া ভিড়। বিশ্বের দেশে দেশে এই ভাইরাসটির সংক্রমণ দেখা মাত্রই সারাদেশ বা প্রদেশ লকডাউন করে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার শংকায় প্রতিরোধ করেছে, তখন আমাদের দেশের জনগণ ঢাকা থেকে ঈদ উৎসবের ন্যায় লাখো লাখো ঘরমুখো যাত্রীর দেশব্যাপী যাতায়াতের কারণে এই ভাইরাসটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে যায়।

চার, কোনো হাসপাতালেই করোনা প্রতিরোধের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। কোয়ারেন্টাইনের জন্য নির্ধারিত অনেক হাসপাতালেরই একেবারে বেহাল দশা। বেড, লাইট, ফ্যান কিছুই ঠিকঠাক নেই, জানালার কাঁচ ভাঙ্গা। ১৭ কোটি মানুষের জন্য কেবল ২৯টা আইসিইউ। ঢাকা ছাড়া বাকি ৬৩ জেলার কোথাও নেই কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের যন্ত্র! ভাবা যায়!
ডাক্তারদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা উপকরণও সরবরাহ করছেনা সরকার, নিজের টাকায় কিনে নিতে বলছে। অল্পকিছু সুরক্ষা উপকরণ যা দিচ্ছে তা আবার ছাত্রলীগ বা আমলারা কেড়ে নিচ্ছে। চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে ডাক্তারদের। নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ সরকার ডাক্তারদের কড়াভাবে শাসিয়ে বলছে দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে কঠোর শাস্তি পেতে হবে। এমর্মে, স্থানীয় মন্ত্রণালয় সকালে একটি আদেশ জারির পর ঐ দিনই তা বাতিল করে। এছাড়া স্থানীয় অধিদপ্তরও একটি আদেশ স্থগিতের কথা জানায়।

আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশে কোনো নাগরিক চিকিৎসাসেবা না পেলে তাঁদের সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকি বা থানার ওসিকে জানানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছিল।

এ কেমন কথা! এই মহামারির সময়ে যে চিকিৎসকরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তাঁদেরকে সম্মান জানানোর পরিবর্তে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দিচ্ছে সরকারি কর্তৃপক্ষ, ভাবা যায়!

আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তো আরেক কাঠি সরেস! তাদের চিঠিতে ব্যক্তিগত সুরক্ষা পোশাক (পিপিই) ছাড়াই করোনাভাইরাসের উপসর্গ আছে এমন রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে চিকিৎসকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

চার, বৃহস্পতিবার তথ্য় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে তাঁদের সহকর্মীদের অনুসরণ করেন। তাঁরাও সকালে একটি পরিপত্র জারি করে সমালোচনার মুখে ঐ দিনই তা বাতিল করেন। ঐ পরিপত্রে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সংবাদ নিয়ে বেসরকারি টেলিভিশনগুলোতে কোনো গুজব ছড়ানো হচ্ছে কিনা জানতে ১৫ সরকারি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল৷

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশে সই করেছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব রোকেয়া খাতুন। এমন আদেশকে ‘মূর্খতা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন তাঁর বিভাগেরই সচিব মো. আসাদুল ইসলাম। প্রথম আলোকে তিনি বলেছেন, “যা হয়েছে সেটা মূর্খতা। আদেশটি আমাকে না জানিয়ে করা হয়েছে। কীভাবে এই আদেশ এলো সে সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। আমি জানার পরই আদেশটি বাতিল করে দিতে বলেছি।”

সচিব মহোদয়ের কাছে আমাদের প্রশ্ন, আপনাকে না জানিয়ে কীভাবে আপনার বিভাগ থেকে এ ধরনের একটি আদেশ জারি হলো? আমরা কি ধরে নিতে পারি যে, চিকিৎসকরা সমালোচনা করায় হয়ত আদেশটি আপনার চোখে পড়েছে এবং সমালোচনার কারণেই হয়ত আপনি তা বাতিল করতে তৎপর হয়েছেন? নাকি আপনাকে জানিয়েই আসলে আদেশটি জারি হয়েছিল, কিন্তু সমালোচনা হওয়ায় এখন অনেক বসদের মতোই তা অধঃস্তনদের ওপর চাপিয়ে দিলেন?

যা-ই হোক, আপনি আপনার মন্ত্রণালয়ের আদেশকে ‘মূর্খতা’ বলেছেন। আমরা আমজনতা আর ভবিষ্যতে এমন ‘মূর্খতা’ দেখতে চাই না। বিশেষ করে এমন মহাসংকটের সময় তো নয়ই।

 

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন