যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি থাকায়, ব্যবহৃত গাউন পরার নির্দেশ

0
213
যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি থাকায়, ব্যবহৃত গাউন পরার নির্দেশ

যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসক ও নার্সদের পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষা পোশাক (পিপিই) ছাড়াই এবং অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম একাধিকবার ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ইংল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এই নির্দেশনা জারি করেছে। ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহকারীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতলে মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশের পরই এই নির্দেশনা জারি করা হলো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।

জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের আগের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর্মীদের লম্বা হাতা, একবার ব্যবহারযোগ্য ও তরলনিরোধ গাউন পরতে হবে। কিন্তু এখন গাউনের সংকট দেখা দেওয়াতে কর্মীদের মেডিক্যাল গাউন ধুয়ে পরা বা তরলনিরোধ নয় এমন সরঞ্জাম পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৪ হাজার ৬০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজারের বেশি মানুষ। দেশটিতে অন্তত ৫০ জন স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু হয়েছে করোনার সংক্রমণে। এই অবস্থায় যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই করোনাভাইরাস আক্রান্ত হতে পারেন এমন ব্যক্তির থেকে ২০ সেন্টিমিটারের মতো দূরত্বে থেকে কাজ করতে বলা হচ্ছে ডাক্তারদের। অথচ যেখানে সাধারণ মানুষকে বলা হচ্ছে ২ মিটার হতে হবে ন্যূনতম দূরত্ব।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ এক নির্দেশনায় বলেছে, উচ্চমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ হাসপাতালগুলোতেই কেবল পূর্ণাঙ্গ পানিনিরোধক সার্জিক্যাল গাউন পরতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, যখন গাউন শেষ হয়ে যাবে, তখন বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে প্লাস্টিকের অ্যাপ্রন পরতে হবে অথবা অন্য হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করতে হবে। এ ছাড়া চিকিৎসক ও নার্সদের একটি গাউন একাধিকবার ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

ব্রিটিশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের পরামর্শক কমিটির চেয়ারম্যান ড. রব হারউড বলেছেন, যদি গাউন পুনরায় ব্যবহার করতে বলা হয় তাহলে সেটি হওয়া উচিত বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে, প্রাপ্যতার ভিত্তিতে নয়। স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার বিষয়ে কোনও ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।

এর আগে বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুক্তরাজ্যে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের কর্মীরা চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন ময়লা ফেলার ব্যাগ মাথায় দিয়ে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ব্যক্তিগত সুরক্ষা দেয়া সরঞ্জামের অভাব প্রকট, এমনও হয়েছে যে পিপিইর অভাবে ময়লা ফেলার পলিথিন, প্লাস্টিকের অ্যাপ্রোন ও স্কিইং করার চশমা পরে কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন তারা।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন