উত্তরপ্রদেশে খিদের জ্বালায় বিস্কুট কিনতে গিয়ে মালাউন পুলিশের মারে প্রাণ গেল মুসলিম কিশোরের

0
293
উত্তরপ্রদেশে খিদের জ্বালায় বিস্কুট কিনতে দোকানে গিয়ে মালাউন পুলিশের মারে প্রাণ গেল কিশোরের

করোনা প্রতিরোধের সঠিক ব্যবস্থা না করে ভারতে চলছে অপরিকল্পিত লকডাউন। আর সেই লকডাউন মানতে কড়া নজরদারি। নিয়ম ভাঙলেই অনেকক্ষেত্রে কপালে জুটছে মালাউন পুলিশের লাঠি। এবার সেই লাঠির ঘায়েই উত্তরপ্রদেশে এক মুসলিম কিশোরের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ।

ভারতের উত্তরপ্রদেশে ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে বিস্কুট কিনতে বেরিয়ে পুলিশের লাঠির আঘাতে রিজওয়ান (১৯) নামের এক মুসলিম কিশোরের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

খাবার কিনতে বেরিয়ে পুলিশের অত্যাচারের মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে। গত বৃহস্পতিবার রাতেই গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দু’দিন মৃত্যুর শয্যায় থেকে শনিবার সরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। ছাজ্জাপুরের কিশোরের মৃত্যুতে যোগী আদিত্যনাথের পুলিশকেই কাঠগড়ায় তুলছেন গ্রামবাসীরা।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা সংবাদ প্রতিদিন সূত্রের খবর, লকডাউনের পর থেকেই ভাঁড়ারে টান পরেছে। বৃহস্পতিবার রাতে খিদের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে বিস্কুট কিনতে বেরিয়েছিলেন আম্বেদকর নগরের ছাজপুর গ্রামের বছর উনিশের রিজওয়ান। লকডাউন ভাঙার অভিযোগ সেই সময় মালাউন পুলিশ তাকে বেধরক মারধর করে বলে দাবি। প্রত্যদর্শীদের অভিযোগে, দোকানে আরও খরিদ্দাররা ছিল, কিন্তু তাঁদের কিছু বলেনি পুলিশ। ঘটনা প্রসঙ্গে রিজওয়ানের বাবা মুহাম্মদ ইজরায়েলি বলেন, “বৃহস্পতিবার রাতে আমার ছেলে আর খিদের জ্বালা সহ্য করতে পারছিল না। বিস্কুট কিনতে বেরিয়েছিল। সেইসময় পুলিশ তাকে বেধড়ক মারধর করে।” কাঁদতে কাঁদতে তাঁর হাহাকার, “করোনা নয়, পুলিশই আমার ছেলেকে কেড়ে নিল।”

গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন, লকডাউন থাকায় পুলিশ রিজওয়ানকে বিস্কুট কিনতে দিচ্ছিল না। রিজওয়ানের কাকা মুন্নার কথায়, সেখা আরও খরিদ্দাররা ছিলেন, তাদের পুলিশ আটকাল না। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলল, পুলিশ রাইফেলের বাট, লাঠি দিয়ে তাকে মারছিল। তাঁদের আরও অভিযোগ, “লকডাউননের মেয়াদ বৃদ্ধির পরই প্যানিক-বাইয়িং চলছিল। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন বাড়ি বাড়ি খাবর পৌঁছে দিয়ে যাবেন। কিন্তু ২৫ মার্চ থেকে কোনও সাহায্যই পাইনি। বাড়িতে যা রসদ ছিল সব শেষ। বাইরে বের হলেই পুলিশ মারছে। জানিনা এরপর কীভাবে চলবে!”

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন