চাল চুরির মহোৎসবে এবার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জনগণের মামলা

0
163
চাল চুরির মহোৎসবে এবার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জনগণের মামলা

নড়াইলের পিরোলী ইউপি চেয়ারম্যান জারজিদ মোল্যার বিরুদ্ধে ভিজিডির ৪১ টন চাল আত্মসাৎ-এর মামলা করেছে জনগণ।

এ সময় করোনার ঝুঁকির মধ্যে সামাজিক দূরত্ব ব্যবস্থা না মেনেই চেয়ারম্যানের বাড়ির আশে পাশের কয়েকজন নারী-পুরুষকে মানববন্ধনে বাধ্য করা হয়। কয়েক দফা তদারকির পর চেয়ারম্যান জারজিদ মোল্লার বিরুদ্ধে প্রায় ৪১ টন ভিজিডি চাল আত্মসাতের ঘটনায় কালিয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের সুপারভাইজার মো.মতিয়ার রহমান বাদী হয়ে শনিবার (১৮এপ্রিল) থানায় মামলা দায়ের করেন। যা কালিয়া থানা পুলিশের মাধ্যমে দুদকে প্রেরণ করা হয়েছিল।

মামলার বিবরণে জানা যায়, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় তৃণমূল পর্যায়ে পিরোলী ইউনিয়নের অসহায় পরিবারের মহিলাদের দুই বছরব্যাপী বিনামূল্যে প্রতিমাসে ৩০কেজি করে ১৯০টি ভিজিডি কার্ড বরাদ্দ করা হয়েছে। উক্ত কার্ডের বিপরীতে চলতি ২০১৯-২০২০অর্থবছরে ইউপি চেয়ারম্যান মো.জারজিদ মোল্যার অনুকুলে ১৯০ জনকে ভিজিডি সুবিধার জন্য ৫হাজার ৭০০কেজি চালের ডিও প্রদান করা হয়। এই ১৯০ জন দরিদ্র মানুষের তালিকায় ৮৫ জনের কোন হদিস পায়নি তদারককারী প্রতিষ্ঠান উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। এই চালের কিছু অংশ বিতরন করলেও ২০১৯ সালের জানুয়ারী মাস হতে মাস হতে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ১৬ মাসে ৪০ টন ৮০০ কেজি চাল দুর্নীতি বা বেআইনীপন্থায় আত্মসাৎ করেছেন। কালের কন্ঠের রিপোর্ট

স্থানীয়রা বলছেন,যেখানে দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান এর গ্রেপ্তার হওয়া উচিত সেখানে তা না করে উল্টো একজন চোর নিজেকে দুর্নীতি মুক্ত করতে মানবন্ধনের সাহস পায় কোথায়। মানববন্ধনে আসা খড়রিয়া গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চেয়ারম্যান ভয়ংকর প্রকৃতির মানুষ তার ভয়ে তার বিপক্ষে এলাকার কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না। আমরা বাধ্য হয়েই মানবন্ধনে এসেছি, না হলে বাড়ি টিকতে পারবো না।

এদিকে দুদকে মামলা হবার পরে পিরোলী ইউনিয়নের সাধারন মানুষ অত্যন্ত খুশী হলেও কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। খোজ নিয়ে জানা গেছে,এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে নেশা,চাদাবাজি করার জন্য নিজ বাহিনী তৈরী করেছে এই চেয়ারম্যান। একাধিক খুন সহ সাংবাদিক ও তহশিলদার মারার মতো ঘটনার সাথে জড়িত তিনি।

খড়রিয়া বাজারের একজন ব্যবসায়ী বলেন, চেয়ারম্যান জারজিদ একজন সন্ত্রাসী ও নেশাখোর,তার নিজস্ব বাহিনী আছে,কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে তাকে সায়েস্থা করে থাকেন। ইউনিয়ন পরিষদের দোতলায় তার টর্চার সেল আছে।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন