আওয়ামীলীগের ছত্রছায়ায় বেপরোয়া কিশোর গ্যাংয়ের হাতে জিম্মি ঢাকাবাসী

2
476
আওয়ামীলীগের ছত্রছায়ায় বেপরোয়া কিশোর গ্যাংয়ের হাতে জিম্মি ঢাকাবাসী

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বেড়ে উঠা বেপরোয়া কিশোর গ্যাংয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ঢাকাবাসী। তুচ্ছ ঘটনায় কিশোর গ্যাং কর্তৃক খুন, জখম, হানাহানি আজ বাংলাদেশের নিত্যদিনের ঘটনা।

স্কুলের গণ্ডি না পেরোনো কিশোর গ্যাংয়ের অনেক সদস্য দুর্ধর্ষ অপরাধী হিসাবে তালিকাভুক্ত। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তাদের কেউ কেউ আবার যুক্ত চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসায়। অভিভাবকদের শাসন বিহীন সামাজিক অবক্ষয়ে বেড়ে উঠা এসব যুবকরা ইভটিজিং আর বখাটেপনায়ও দারুণ সিদ্ধহস্ত।

জানা যায়, প্রতিটি কুখ্যাত কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে ত্বাগুত আওয়ামিলীগের প্রত্যক্ষ সমর্থন রয়েছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণে ত্বাগুত আওয়ামিলীগ নেতারা এসব কিশোর গ্যাং লালন-পালন করে থাকে।

আওয়ামিলীগ সম্পাদক মোরশেদ কামাল ঢাকার কলাবাগান এলাকায় সক্রিয় কিশোর গ্যাং জসিম গ্রুপকে শেল্টার দেন। আর হাজারীবাগের সক্রিয় কিশোর গ্যাং লাভলেন ও বাংলা গ্রুপকে শেল্টার দেন ছাত্রলীগ নেতা তপু।

জানা যায়, বেইলি কিং রন বা রন গ্রুপের লিডার সামিউল হক ওরফে রন এলাকায় প্রভাবশালী হিসাবে পরিচিত। সে মহল্লায় ১০/২০ জন সঙ্গী নিয়ে বিভিন্ন অলিগলিতে মহড়া দেয়। এ সময় তারা পথচারীদের উত্ত্যক্ত করে, নারীদের অশালীন মন্তব্য করে।

রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী, মগবাজার এবং শান্তিনগর এলাকায় সক্রিয় কিশোর গ্যাং বেইলি কিং রন বা রন গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে ১৯নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ। উল্লেখ্য, যুবলীগ নেতা মাসুদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা পরিচালনায় স্থানীয় থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

আর টিএসসি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মাদকসেবন, বখাটেপনা ও ছিনতাইয়ে জড়িত অলি গ্রুপের প্রধান পৃষ্ঠপোষক অলি গাজী হচ্ছে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের টিএসসি ইউনিটের নেতা।

তাছাড়াও কিশোর গ্যাংয়ের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক হিসাবে জড়িত আছে কলাবাগান থানা যুবলীগের যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া ও হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রবিন।

রাজধানীর মুগদা এলাকায় সক্রিয় কিশোর গ্যাং চাঁন যাদু গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক হিসাবে আছেন ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া রাজা।

তাছাড়াও সিটি করপোরেশনের ৭২নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি হাজী বিপ্লবও নিজ স্বার্থে কিশোর গ্যাং লালনপালন করেন।

আর রাজধানীর কলাবাগান থানার আশপাশ, বারেক হোটেল এবং ভূতের গলি এলাকায় সক্রিয় হচ্ছে জসিমের জসিম গ্রুপ। এদের বিরুদ্ধে ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ আছে।

কুখ্যাত জসিম গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোরশেদ কামাল এবং কলাবাগান থানা যুবলীগের যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। এদের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই গ্রুপের বেশির ভাগ সদস্য অপরাধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। এলাকায় মারামারি থেকে শুরু করে ছিনতাই-চাঁদাবাজিও করে তারা।

হাজারীবাগ এলাকায় ৫টি কিশোর গ্যাং তালিকাভুক্ত। এর মধ্যে দুর্ধর্ষ প্রকৃতির একটি হচ্ছে ফরিদের লাভলেন গ্রুপ এবং অপরটি বাংলা গ্রুপ। এর সদস্যদের অনেকেই ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং মারামারিতে সিদ্ধহস্ত। এদের বেশির ভাগই বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী।

সাখাওয়াত হোসেন ওরফে বাংলা সৈকতের বাংলা গ্রুপের সদস্যদের দেখা যায় জরিনা সিকদার বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এবং বাংলা সড়ক এলাকায়। উল্লেখ্য, লাভলেন এবং বাংলা গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বে ইয়াছিন আরাফাত নামের কিশোর নিহত হয়। ২০১৯ সালের ২৯ জুন তার লাশ পাওয়া যায়।

হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রবিনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আজিমের পারফেক্স গ্যাং স্টার নামের একটি গ্রুপ। এছাড়া কোম্পানিঘাট এলাকায় সক্রিয় রয়েছে শেখর সুমনের সুমন গ্রুপ। সুমন ২২ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য।

হাজারীবাগ পার্ক, চৌধুরীবাড়ি মোড়, ষড়কুঞ্জ, বাড্ডা নগর পানির ট্যাং এলাকার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে জনির লাড়া দে গ্রুপের হাতে।

রাজধানীর ফকিরাপুল, আরামবাগ ও আশপাশের এলাকায় শেখ সাদ আহম্মেদের মিম গ্রুপ সক্রিয়।

মুগদা এলাকায় সক্রিয় ৬টি কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে ১ নম্বরে আছে লিমন ওরফে চাঁনের চান-যাদু গ্রুপ। তাছাড়াও মুগদায় সক্রিয় আছে অপুর ডেভিল কিং ফুল পার্টি। এছাড়া উত্তর মুগদা, ঝিলপাড় ও আশপাশ এলাকায় সক্রিয় কিশোর গ্যাং শাহনেওয়াজ ওরফে জিসানের জিসান গ্রুপ। গ্রুপের বেশির ভাগ সদস্যরা ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে জড়িত। এছাড়া এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ে রেসিং, ইভটিজিং ও অহেতুক মারামারিতে জড়িত অনেকে।

উত্তর ও দক্ষিণ মান্ডা এলাকায় সক্রিয় কিশোর গ্যাং মশিউর রহমান ওরফে প্লাবনের বিচ্ছু বাহিনী। ৭২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি হাজী বিপ্লব জিসান গ্রুপটির পৃষ্ঠপোষক।

রামপুরা এলাকার হাজীপাড়া, বালুর মাঠ ও আশপাশের এলাকায় সক্রিয় আকিল হোসেনের আকিল ও অন্নয় গ্রুপ।

শাহজাহানপুর আবুজর গিফারী কলেজ এলাকায় সক্রিয় কিশোর গ্যাং শরিফ উদ্দিন ওরফে নিবিড়ের নিবিড় গ্রুপ।

সবুজবাগ ২ নম্বর রোড ও তাজ স্কুলের আশপাশে সক্রিয় মাসুদ গ্রুপ।

উল্লেখ্য, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে পেছনে ফেলে অপরাধ জগতে পা বাঁড়ানো এসব কিশোর গ্যাংরা ত্বাগুত আওয়ামিলীগ ক্যাডারদের দ্বারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে লালিত পালিত হয়।

2 মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন