ইসরায়েল সন্ত্রাসীদের ‘পেগাসাসের’ ফাঁদে রাজনীতিক-আইনজীবী-সাংবাদিকরা

2
338
ইসরায়েল সন্ত্রাসীদের ‘পেগাসাসের’ ফাঁদে রাজনীতিক-আইনজীবী-সাংবাদিকরা

ইসরায়েলের তৈরি হ্যাকিং সফটওয়্যার পেগাসাস ব্যবহার করছে বিশ্বের কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলো। যার মাধ্যমে তারা আড়িপাতে নিজ দেশের মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিকদের ফোনে। রোববার ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানসহ ১৬টি সংবাদপত্র ইসরায়েলের এই ভয়ঙ্কর হ্যাকিংয়ের ঘটনাটি ফাঁস করে। যাতে বলা হয়, কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলো এই হ্যাকিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ডিজিটালি হ্যাক করছে। এর মাধ্যমে পাওয়া তথ্যগুলো সরকারগুলো ব্যবহার করছে নিজেদের সুবিধার্থে।

হ্যাকিং সফটওয়্যার পেগাসাস ব্যবহার করা দেশগুলো হলো, আজারবাইজান, বাহরাইন, হাঙ্গেরি, ভারত, কাজাখস্তান, মেক্সিকো, মরোক্কো, রুয়ান্ডা, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

কিছুদিন পূর্বে আল জাজিরার প্রতিবেদনে উঠে আসে বাংলাদেশও ইসরাইল থেকে আড়িপাতার যন্ত্র কিনেছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাইবার সিকিউরিটি ল্যাব পরিচালনাকারী ক্লডিও গুয়ারনিয়েরি বরাত দিয়ে গার্ডিয়ান জানায়, যদি কোনো স্মার্টফোনে পেগাসাস সফটওয়্যারটি প্রবেশ করানো যায়, তবে এনএসওর গ্রাহক পুরো ফোনটির দখল পেয়ে যায়।

এতে ফোনের মালিকের মেসেজ, কল, ছবি, ইমেইল সবই দেখতে পাবে। পড়তে পারে হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, সিগন্যালের বার্তাগুলো। এমনকি গোপনে ক্যামেরা কিংবা মাইক্রোফোন চালুও করতে পারবে এ পেগাসাস সফটওয়্যার।

গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সম্প্রতি ফাঁস হওয়া ডেটাবেইসে ৫০ হাজারের বেশি ফোন নম্বর পাওয়া গেছে। ২০১৬ সাল থেকে ইসরায়েল কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলোকে এ সুযোগদিয়ে আসছে।

এছাড়া এ হ্যাকের কবলে পড়েছে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কর্মীরা। যার মধ্যে রয়েছে এএফপি, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমস, আল জাজিরা, দ্য ইকোনোমিস্ট, ভয়েজ অব আমেরিকা ও দ্য গার্ডিয়ানের সাংবাদিকরা।

অ্যামনেস্টির সিকিউরিটি ল্যাবের ফরেনসিক বিশ্লেষণ বলছে, সৌদি আরবের কলাম লেখক জামাল খাসোগির দুই নারী বন্ধুকেও প্যাগাসাস স্পাইওয়্যার দ্বারা হ্যাক করা হয়েছে। এছাড়া জামাল খাসোগি হত্যার পর তার বাগদত্তা হাতিস কেনজিজর ফোনেও প্রবেশ করানো হয় হ্যাকিং ম্যালওয়্যারটি।

এদিকে আড়িপাতার দেশগুলোর তালিকায় ভারতের নাম আসায় দেশটিতে শুরু হয়েছে বিস্তার আলোচনা। একটি সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বহু ভারতীয় ফোন থেকে তথ্য চুরির জন্য পেগাসাস ব্যবহার করা হয়েছিল। তালিকায় রয়েছে সাংবাদিক, বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা, সমাজকর্মীরাও। ২০১৯ সালের মে মাস পর্যন্ত এই সফ্টওয়্যার বিক্রি সীমাবদ্ধ ছিল। এনএসও গ্রুপের ওয়েব সাইটে বলা হয়েছে সংস্থাটি এমন একটি সফ্টওয়্যার বানিয়েছে সেটি সরকারি সংস্থাকে সন্ত্রাসবাদ, অপরধার প্রতিহত করতে সাহায্য করবে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার।

ইসরায়েলের সাইবার গোয়েন্দা সংস্থা ও নিরাপত্তা সংস্থা এনএসও গ্রুপ হ্যাকিং সফটওয়্যার পেগাসাস তৈরি করে। ২০১৬ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক হারে যার ব্যবহার শুরু হয়।

সূত্র: আল জাজিরা

 

2 মন্তব্যসমূহ

  1. মানুষের ব্যাক্তি স্বাধীনতা নস্ট করা হচ্ছে এই ‘পেগাসাস’ নামক Hacking System এর মাধ্যমে। এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আর সেই সাথে সবাই কে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানাই।
    আসলে এখন আমরা Technology-র উপর যে যতটা নির্ভরশীল সে ততটাই পরাধীন।
    সেদিন ‘এডওয়ার্ড স্নোডেন’ (যে CIA এর সাবেক সদস্য এবং অ্যামেরিকার Cyber নজরদারী সম্পর্কে অনেক গোপন বিষয় ফাঁস করেছে) এর Permanent Record বইটা পড়ে পুরো হতবাক হয়েছি।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন