“হামলাকারী ছেড়ে নির্যাতিতদের বিরুদ্ধে মামলা : হামলার পোস্ট দেওয়ায় কঠোর অবস্থানে হিন্দুত্ববাদী পুলিশ”

উসামা মাহমুদ

0
1237
“হামলাকারী ছেড়ে নির্যাতিতদের বিরুদ্ধে মামলা : হামলার পোস্ট দেওয়ায় কঠোর অবস্থানে হিন্দুত্ববাদী পুলিশ”

পুলিশের নীরব ভূমিকার কারণে ত্রিপুরার মুসলিমদের উপর উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংঘগঠনগুলোর হামলা-নির্যাতনের ঘটনাগুলো আরো বেগবান হয়েছিল। মুসলিমদের মসজিদ, বাড়িঘর ও দোকানপার্টে হামলা হামলা বন্ধের কোন চেষ্টাই করেনি।

যারা হামলা করেছে তাদেরও কোন বিচার হয়নি, তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি কোন শাস্তিমূলক পদক্ষেপ।

পক্ষান্তরে যে সমস্ত মুসলিমরা টুইটারে হামলার ভিডিও ফুটেজ ও বর্ণনা দিয়ে পোস্ট করেছে, তাদের বিরুদ্ধেই এখন ফৌজদারি মামলা দায়ের করছে পুলিশ।

৬ই নভেম্বর, ত্রিপুরা পুলিশের পশ্চিম আগরতলা থানা ১০২ টি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করে। রাজ্যের পুলিশ দাবি করেছে যে এই হ্যান্ডেলগুলি ঘটনার বিষয়ে “বিকৃত এবং আপত্তিকর” পোস্ট করেছে। সাংবাদিক, অ্যাক্টিভিস্ট এবং অন্যদের এই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলি রাজ্যে “সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা” সৃষ্টি করতে পারে এই অযুহাতে ৩ নভেম্বর টুইটারে পুলিশের চিঠিতে বলা হয়েছে, ভারতের কঠোর আইনের অধীনে বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সন্ত্রাস বিরোধী আইন, বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (UAPA), 1967, এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC), 1860 এর ধারায়।

টার্গেট করা হ্যান্ডেলগুলির নিবন্ধন বিবরণ: “নিবন্ধনের তারিখ থেকে” ব্রাউজিং হিস্টরি, এই হ্যান্ডেলগুলিতে লগ ইন করতে ব্যবহৃত আইপি ঠিকানাগুলির তালিকা, লিঙ্ক করা মোবাইল নম্বর এবং লিঙ্ক করা অ্যাকাউন্ট সবকিছু মিলিয়ে তাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।

অথচ, হিন্দুরা সমাবেশ থেকে মসজিদগুলোতে হামলা চালায়। মুসলিমদের বাড়িঘরে, দোকানে আগুন দেয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়ে অবমাননাকর স্লোগান দেয়, যেমন ‘মুহাম্মদ কে বাপ কা নাম, জয় শ্রী রাম’ (মুহাম্মদের পিতার নাম, জয় শ্রী রাম)। নাউযুবিল্লাহ।

স্থানীয় মুসলিমরা জানিয়েছেন, “পুলিশ যদি জনতাকে থামানোর চেষ্টা করত, তাহলে আমাদের দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হতো না।
রোয়াতে স্থানীয়রা এবং দোকানের মালিকরা বলেছেন যে দোকানের সারিগুলো শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের নয়। অথচ, শুধুমাত্র মুসলিম মালিকানাধীন স্থাপনাগুলিকে বেছে হামলা করা হয়।

tripure-Arrest2
স্থানীয় মুসলিম দোকানদার সানোহর আলী বলেন, “আমাদের গ্রামের হিন্দুরাও সমাবেশে অংশ নিয়েছে। “তা নাহলে জনতা কিভাবে জানবে কোন দোকানগুলো মুসলিমদের?” আমরা কখনো হিন্দু মুসলিমদের আলাদা মনে করতাম না তাদের সাথে বসে গল্প গুজব করতাম, চা নাস্তা খেতাম।

এতো শত চাক্ষুষ প্রমাণ থাকার পরেও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষে না নিয়ে পুলিশ এখন নির্যাতিত মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকদেরকেই গ্রেফতার করছে।

তথ্যসূত্র:
======
১। After Tripura Muslims Faced Mob Attacks, Muslim Twitter Handles Nationwide Face Police Action
https://tinyurl.com/54ehmwet
২। ত্রিপুরায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ মুসলিমদের বাড়িঘর, দোকানপাটে আগুন দিয়েছে –
https://tinyurl.com/2rkmuknb
৩। ত্রিপুরায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ মুসলিমদের বাড়িঘর, দোকানপাটে আগুন দিয়েছে –
https://tinyurl.com/2tyhhc23
৪। ত্রিপুরায় মুসলিমদের ওপর হামলা –
https://tinyurl.com/3tecpnxj
৫. ত্রিপুরায় আবারও মুসলিমদের বাড়িঘর-দোকানপাট-মসজিদে অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুর –
https://statewatch.net/post/21910

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন