ভারতীয় শিবিরে কাশ্মীরি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হানা: হতাহত ১০ এর বেশি দখলদার সৈন্য

1
1704
ভারতীয় শিবিরে কাশ্মীরি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হানা: হতাহত ১০ এর বেশি দখলদার সৈন্য

হিন্দুত্ববাদী ভারত কর্তৃক জবরদখলকৃত কাশ্মীরে যুদ্ধের দামামা দিন দিন আরও প্রকট হচ্ছে। এবার সেই যুদ্ধেরই অংশ হিসাবে কাশ্মীরী প্রতিরোধ যোদ্ধাদের আঘাতে ১০ এর বেশি দখলদার ভারতীয় সেনা ও পুলিশ সদস্য হতাহত হয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, উত্তর কাশ্মীরের মালওয়াহ এলাকায় গত বৃহস্পতিবার থেকে তুমুল লড়াই শুরু হয় প্রতিরোধ যোদ্ধাদের। যা দীর্ঘ ২৬ ঘন্টাব্যাপি চলতে থাকে। এসময় স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরের বীর যোদ্ধাদের গুলিতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় সামরিক বাহিনীর ৪ সেনা সদস্য এবং অপর এক পুলিশ সদস্য আহত হয়।

তবে দীর্ঘ এই লড়াইয়ে দখলদার বাহিনীর গুলিতেও শাহাদাতবরণ করেছেন ২ জন স্বাধীনতাকামী। যাদের একজন হচ্ছেন কমান্ডার মুহাম্মাদ ইউসুফ কানতরু (রহ.)। এই লড়াইয়ে তিনি ছাড়াও শাহাদাত লাভ করেছেন হিলাল আহমাদ শেখ নামে আরও একজন স্বাধীনতাকামী।
অপরদিকে জম্মুর সুনজওয়ান এলাকায়ও দখলদার বাহিনী ও স্বাধীনতাকামীদের মধ্যে আরও একটি লড়াই সংঘটিত হয়। এসময় দখলদার বাহিনীর সাথে লড়াইয়ে শাহাদাতবরণ করেন আরও ২ জন স্বাধীনতাকামী। তবে তাঁরা শাহাদাত লাভে ধন্য হওয়ার আগে হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় সামরিক বাহিনীর ১ সদস্যকে হত্যা করেন এবং আরও ৪ দখলদার সেনাকে গুরুতর আহত করেন।

কাশ্মীরভিত্তিক নিউজ পোর্টাল ‘দা কাশমিরিয়াত’ এর তথ্যমতে, বারামুল্লাহ অভিযানটি শুরু হয় ২১ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টার দিকে। ঐদিন ভোর হতেই দখলদার পুলিশ ও সেনবাহিনীর যৌথ একটি দল মালওয়াহ এলাকাকে ঘিরে ফেলে। স্বাধীনতাকামীরা ঘটনা বুঝতে পেরে গুলি চালানো শুরু করেন এবং তাঁদের গুলিতে তৎক্ষণাত ৩ দখলদার সেনা গুলিবিদ্ধ হয়। পরবর্তীতে গুলি বিনিময়কালে আরো ১ দখলদার সেনা ও অপর ১ পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়। পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ চলাকালীন ৫ ঘন্টার মাথায় কমান্ডার মুহাম্মাদ ইউসুফ কানতরু ও হিলাল আহমাদ শেখ শাহাদাতবরণ করেন।

আর জম্মুর সুনজওয়ান এলাকার অভিযানটি শুরু হয় শুক্রবার (২২ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে। যেখানে দুইজন স্বাধীনতাকামীর খোঁজে অভিযান চালায় দখলদার বাহিনী। দেশটির হিন্দুত্ববাদী পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানের মাত্র দুইদিন পরেই কসাই মোদির জম্মুর সামবা এলাকায় পরিদর্শনের কথা ছিল। আর সেই সময়েই উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের পৃষ্ঠপোষক মোদিকে টার্গেট করে সেখানে ফিদায়ী হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রতিরোধ যোদ্ধারা।

প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হামলায় দখলদার সেনাদের হতাহতের এই পরিসংখ্যানটি ছিল ভারতীয় সামরিক বাহিনীর দাবি করা সংখ্যা। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, হতাহতের এই পরিসংখ্যান আরও কয়েকগুণ বেশি।

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

eleven − eleven =