তালিবান সরকার কর্তৃক আফগানিস্তানে মাদকের আবাদ ধ্বংস

আলী হাসনাত

0
1309
তালিবান সরকার কর্তৃক আফগানিস্তানে মাদকের আবাদ ধ্বংস

ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান প্রশাসন দেশটিতে মাদকের চাষ ও ব্যবসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পর দেশের দক্ষিণে পপি ক্ষেত ধ্বংস করা শুরু করেছে।

দেশটির ‘বাখতার নিউজ এজেন্সি’এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইমারাতে ইসলামিয়া প্রশাসনের মাদকবিরোধী কমিশন দেশটির দক্ষিণে হিলমান্দ প্রদেশে পপি চাষের ক্ষেত ধ্বংস করতে শুরু করেছে।

হিলমিন্দ প্রদেশের ছয়টি জেলায় শুরু হওয়া অভিযানে ট্রাক্টরের সাহায্যে পপির আবাদ করা ক্ষেত ধ্বংস করা হয়।

আফগানিস্তানে মাদক নিষিদ্ধ :

ইমারতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে এপ্রিলের শুরুতে সারা দেশে পপি চাষ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।

আর ইমারতে ইসলামিয়ার সর্বোচ্চ নেতা ও আমীরুল মুমিনিন শাইখ হাইবাতুল্লা আখুন্দজাদা (হাফি.) কর্তৃক জারি করা ডিক্রির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ডিক্রিতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল:

ইমারাতে ইসলামিয়ার আমিরের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে, আজ থেকে সমস্ত আফগানকে জানানো হচ্ছে যে, দেশের সমস্ত অঞ্চলে পপি চাষ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

যদি কোনো ব্যক্তি এই সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে, তাহলে সে যে পপি রোপণ করেছে তা অবিলম্বে ধ্বংস করা হবে। সেই সাথে অভিযুক্ত ব্যক্তির সাথে শরিয়া আইন অনুযায়ী আচরণ করা হবে।

এছাড়াও, এটি ব্যবহার, পরিবহন, বাণিজ্য, রপ্তানি ও আমদানি নিষিদ্ধ। সেই সাথে অ্যালকোহল, হেরোইন, ট্যাবলেট কে, হাশিশ এব সমস্ত ধরণের মাদকদ্রব্য ও মাদক উৎপাদনকারী কারখানায় কাজ করাও আইনগত অপরাধ ও নিষিদ্ধ।

এই সিদ্ধান্তের মানা সবার জন্য বাধ্যতামূলক। যারা এটি লঙ্ঘন করবে তাদের বিচার বিভাগ দ্বারা বিচার করা হবে এবং শাস্তি দেওয়া হবে।

আফগানিস্তানে মার্কিন দখলদারিত্ব ও মাদক:

একই ধরনের সিদ্ধান্ত ১৯৯৬-২০০১ সময়কালে নেওয়া হয়েছিল, যখন তালিবান সরকার প্রথমবার আফগানিস্তানের ক্ষমতা গ্রহণ করেছিল। ২০০০ সালের মধ্যেই তালিবান পপি চাষ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করে। আর তালিবান সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে, আফগানিস্তানে মাদক উৎপাদন শূন্যের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।

কিন্তু ক্রুসেডার মার্কিন আগ্রাসনের প্রাদুর্ভাবের পর আফগানিস্তানে মাদকের উৎপাদন অভূতপূর্ব রেকর্ড মাত্রায় বৃদ্ধি পায়। মূলত দখলদারদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবেই এমনটা ঘটেছিল।

আর দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেও তালিবান সকল প্রকার মাদকের বিরুদ্ধে তাদের পূর্বতন কঠোরতা বজায় রেখেছেন বলেই প্রতীয়মান হয়।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন