পার্বত্য অঞ্চলে উপজাতি সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি : বাংলাদেশের জন্য ভয়াবহ বার্তা

মুহাম্মাদ ইব্রাহীম

0
1087

পার্বত্যাঞ্চলে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় পাহাড়ি আঞ্চলিক দুই সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ ও জেএসএস এর মধ্যে ভয়াবহ বন্দুক যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে।

গত ২৬ আগস্ট ভোর ৫ টায় গোলাগুলি শুরু হয়ে আনুমানিক কয়েকঘন্টা ঘন্টা এই বন্দুক যুদ্ধ চলে। থেমে থেমে দিনভর গুলির শব্দ শোনা গিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এর আগে গত ২৪ আগস্টও তাদের মধ্যে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় উভয় পক্ষই শত শত রাউন্ড গুলি বিনিময় করে। ঘটনার সময় আহত ও নিহতদের লাশ সন্ত্রাসীরা সরিয়ে ফেলায় এবং ঘটনা স্থল দুর্গম ও উপজাতি সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণাধীন হওয়ায় হতাহতের সঠিক খবর জানা যায়নি। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি।

উভয়ই সশস্ত্র সংগঠনই পার্বত্য অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। এসব উপজাতি সন্ত্রাসী বাংলাদেশিদের দখলদার আখ্যা দিয়ে থাকে। এবং নিজেদের চট্টগ্রামের প্রকৃত নাগরিক মনে করে তারা। এ দুটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ছাড়াও পার্বত্য অঞ্চলে আরো অনেক সশস্ত্র দলের উপস্থিতি রয়েছে। শুরুতে তারা কথিত শান্তিবাদী সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও, ধীরে ধীরে তারা পার্বত্য অঞ্চলে আলাদা নতুন খ্রিস্টান রাজ্য গড়ে তুলতে কাজ শুরু করে।

এগুলোর মধ্যে কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট নামে খ্রিস্টানদের এ সংগঠনটি বাংলাদেশ বিরোধিতায় সবার শীর্ষে। সম্প্রতি অনলাইনে পোস্ট কর বিভিন্ন ভিডিওতে তারা স্বাধীন পার্বত্য অঞ্চল গঠনের প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে অচিরেই হামলা শুরু করার কথা বলেছে। তাদের শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে পূর্ব-ভারত ও মিয়ানমারের খ্রিস্টান অধ্যুষিত রাজ্যগুলোতেও। জানা যায় তাদেরকে সাহায্য সহযোগীতা করছে পশ্চিম বিশ্বের কিছু দেশসহ ভারত ও মিয়ানমার সরকার।

এখানে উল্লেখ্য, গত ১৪ আগস্ট জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার মিশেল ব্যাশেল যখন বাংলাদেশে সফর করেছিল, সেসময় সে পার্বত্য অঞ্চলে উপজাতি সন্ত্রাসীদের পক্ষে কথা বলেছে বলে জানা গেছে। তাদের অভিযোগ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সেখানে উপজাতি সন্ত্রাসীদের সাথে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। তাদের এই অভিযোগের মাধ্যমে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, পার্বত্য অঞ্চলের সন্ত্রাসীরা আন্তর্জাতিক মদদপুষ্ট।

ইসলামি চিন্তাবিদরা বলছেন, এসব সন্ত্রাসীরা যখন পার্বত্য অঞ্চলে আলাদ খ্রিস্টান রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চূড়ান্ত উদ্যোগ নিবে, তখন কথিত এই জাতিসংঘ তাদের পক্ষেই কাজ করবে। যেমনটা তারা ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব তিমুরকে আলাদা একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র হতে কাজ করেছে। তাই এখনই যদি বাংলাদেশের মানুষ এ বিষয়ে সচেতন না হয়, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে আলাদা একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র।



তথ্যসূত্র:
——-
১। বাঘাইছড়িতে পাহাড়ি আঞ্চলিক দুই সশস্ত্র সংগঠনের মধ্যে ভয়াবহ বন্দুক যুদ্ধ সংঘটিত
https://tinyurl.com/3k2t2vh4

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন