টিটিপির হামলায় রক্তাক্ত বছর গেল নাপাক বাহিনীর, ১০১৫ সৈন্য হতাহত

0
1154
সুবিধামত ফন্ট ছোট বড় করুনঃ

পাকিস্তানের জনপ্রিয় ও সর্ববৃহৎ সশস্ত্র ইসলামি প্রতিরোধ বাহিনী তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)। দলটির প্রতিরোধ যোদ্ধারা গত ২০২২ ঈসায়ী সনে পাকিস্তান জুড়ে পশ্চিমা সমর্থিত গাদ্দার সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সংখ্যক হামলার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। প্রতিরোধ যোদ্ধাদের এসব বীরত্বপূর্ণ হামলার মধ্য দিয়ে রক্তাক্ত একটি বছর অতিবাহিত করেছে নাপাক পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী।

বলা হয় যে, ২০১৪ সালের পর এই বছরে টিটিপির সর্বোচ্চ সংখ্যক হামলা হয়েছে; যার ফলে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর জন্যও এটি পরিণত হয়েছে একটি রক্তাক্ত বছরে। প্রতিরোধ যোদ্ধারা টানা ৪ মাসের যুদ্ধবিরতি এবং ৩ মাসের প্রতিরক্ষামূলক অভিযান সত্ত্বেও পাকিস্তান জুড়ে ৩৬৭টি অভিযান পরিচালনা করেছেন। যেখানে দলটি ২০২০ সালের পুরো বছর জুড়ে ১৭৭টি এবং ২০২১ সালে ২৮২টি অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। এই পরিসংখ্যান স্পষ্টত পাকিস্তান জুড়ে টিটিপির কার্যক্রম বৃদ্ধির প্রমাণ বহন করে।

টিটিপির তথ্য অনুযায়ী, দেশ জুড়ে টিটিপির ৩৬৭টি হামলার মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক হামলা চালানো হয়েছে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে, যার সংখ্যা ৭৩টি। এরপরে আছে দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান, যেখানে হামলা চালানো হয়েছে ৫৬টি। এমনিভাবে খাইবারে ৩২টি এবং ডেরা-ইসমাইল খানে ৩৩টি হামলা চালানো হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বীরত্বপূর্ণ অপারেশনগুলো পরিচালনা করেছেন মুজাহিদগণ।

টিটিপির বীর যোদ্ধাদের এসব হামলায় গাদ্দার পাকি-সামরিক বাহিনীর ৪৪৬ সদস্য নিহত এবং ৫৬৯ সৈন্য আহত হয়েছে। এছাড়াও ৪৮ সদস্যকে বন্দী করা হয়েছে। মোট হতাহত হয়েছে ১০১৫ কথিত নিরাপত্তা কর্মী। হতাহতদের মধ্যে ৫৪৭ জন সৈন্য এবং সেনাবাহিনীর বিশেষ ইউনিটের সদস্য, ২৪৯ জন পুলিশ, আধাসামরিক ও সিটিডি সদস্য , ১৯০ জন এফসি (সীমান্তরক্ষী) সদস্য এবং ২৯ জন গোয়েন্দা সদস্য।

টিটিপির তথ্য অনুযায়ী, মুজাহিদদের এসব হামলায় ৩৬টি সামরিক যান, ২৪টি পুলিশের যান, ২৪টি সামরিক অবকাঠামো, ৪টি স্পাই ক্যামেরা এবং ১টি গোয়েন্দা কারাগার (সিটিডি কম্পাউন্ড) ধ্বংস হয়েছে।

২০২০ সালকে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের পুনরুত্থানের বছর মনে করা হয়। কেননা ২০১৪ সালে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর জরব-ই-আজব অপারেশনের পর টিটিপির মুজাহিদগণ অনেকাংশেই পাকিস্তান সীমান্ত থেকে সরে পড়েন। এসময়টাতে তাঁরা দীর্ঘদিন যাবৎ আগের অবস্থায় ফিরতে পারেননি। কিন্তু ২০১৮ সালের পর থেকে এই অবস্থার পরিবর্তন হতে শুরু করে। টিটিপির নতুন আমীর মুফতি নূর ওয়ালী মেহসুদের (হাফি.) নেতৃত্বে দলটি আবারও সুসংগঠিত হতে শুরু করে। আর ইমারাতে ইসলামিয়ার বিজয়ের সাথে সাথে ২০২০ সাল টিটিপির জন্য রাজনৈতিক এবং সামরিক উভয় দিক থেকেই উত্থানের বছর হয়ে ওঠে। এসময়টাতে পাকিস্তানের অন্যান্য জিহাদি দলগুলোও টিটিপিতে শামিল হয়ে এক ছাদের নিচে একত্রিত হতে শুরু করে। জিহাদি দলগুলোর টিটিপিতে যোগদান কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।

লেখক: ত্বহা আলী আদনান

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধশাবাবের দুঃসাহসী মহাস অভিযান: সেনা ও অফিসারসহ হতাহত ২১৭
পরবর্তী নিবন্ধমন্ত্রিত্বের শপথ নিয়েই আল-আকসায় অনুপ্রবেশ উগ্র ইহুদি নেতার, পশ্চিম তীরে চলছে ব্যাপক আগ্রাসন