আওয়ামী লীগ, বিএনপি, নুরু—একই গোয়ালের গরু

4
1518

গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের সঙ্গে ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির সদস্য মেন্দি এন সাফাদির হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে। সাফাদির সঙ্গে দুবাইয়ে ভিপি নুর বৈঠক করেছে বলে জানা গেছে।

এর আগে ২০১৬ সালে বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরীও ভারতের দিল্লিতে এই ইসরায়েলী মেন্দি এন সাফাদির সাথে সাক্ষাত করে। সেই ছবি ভাইরাল হওয়ার পর তাকে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার করে আওয়ামী লীগ সরকার।

কিন্তু আওয়ামী লীগ নিজেও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে এই ইহুদিবাদী চরের সাথে যোগাযোগ করেছে বলে জানায় মেন্দি এন সাফাদি নিজেই। বিবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে সাফাদি বলে, বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর সাথে দিল্লিতে তার দেখা হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাথে ওয়াজেদের দপ্তরে দুজনের কথাবার্তা হয়।

সাফাদি জানায়, বৈঠকে সজীব ওয়াজেদই মূলত কথা বলেছে, আর সে শুধু শুনেছে। এসময় হাসিনার পুত্র জয় তার কাছে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে যে, বাংলাদেশের সরকার কত ভাল কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের সঙ্গে বর্তমান সরকারের সম্পর্ক কত ভাল।

এভাবে, বাংলাদেশের রাজনীতির দুই প্রভাবশালী দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এবং তরুণ রাজনীতিবিদ নুরুল হক নুরও নিজেদেরকে বাংলাদেশে ইসরায়েলীদের বিশ্বস্ত চর প্রমাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

অথচ অবৈধ ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েলের সাথে বাংলাদেশের কোনো ধরনের সম্পর্ক রাখার বৈধতা বিদ্যমান আইনেও নেই। তবুও বিভিন্ন সময় ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক গড়ার কিংবা তাদের সুনজরে আসার চেষ্টা করছে বাংলাদেশের ক্ষমতালোভী রাজনীতিকরা।

তার চেয়েও ভয়ানক একটা ব্যাপার হলো, মেন্দি এন সাফাদি কেবল ইসরায়েলী রাজনীতিক কিংবা সন্দেহভাজন গোয়েন্দা সদস্য-ই নয়, উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর সাথেও তার আঁতাত রয়েছে। সে ‘বিশ্ব হিন্দু সংগ্রাম কমিটি (ওয়ার্ল্ড হিন্দু স্ট্রাগল কমিটি)’-এরও একজন কার্যকরী সদস্য। আর এই সংগঠনটি মূলত বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের কল্পকাহিনী ছড়ায় এবং ইসলাম ও মুসলিমবিদ্বেষ উসকে দেয়। সংগঠনটির সভাপতি শিপন কুমার বসু নামে এক উগ্র হিন্দু। এমন একটি সংগঠনের সদস্য ইসরায়েলী ব্যক্তির সাথে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বরা গোপন বৈঠক করছে। এটা কতটা ভয়ানক ব্যাপার, তা সচেতন মানুষ সহজেই বুঝতে পারছেন।

দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা আসলে দেশের বা দেশের মানুষের কথা ভাবে না, দেশের মানুষের সুখ-দুঃখের কথা তারা শুনতে চায় না; ধর্মের কথা তো কল্পনাতীত। তারা শুধু চায় নিজেদের স্বার্থ—ক্ষমতা। ক্ষমতার স্বার্থে মুসলিমদের শত্রুর সাথে বাংলাদেশের দরদাম নিয়ে গোপনে বৈঠক করছে। নিজেদের ক্ষমতার জন্য দেশকে অন্যের হাতে তুলে দিতেও তারা কার্পণ্য করে না। এক্ষেত্রে কথিত গণতান্ত্রিক দলগুলোর মাঝে পার্থক্য নেই। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, নুরু—এরা সবাই একই গোয়ালের গরু।



 লিখেছেন : সাইফুল ইসলাম 

4 মন্তব্যসমূহ

  1. যদি মেনেও নিই এটা এডিট করা! তাহলেও ‘আওয়ামী লীগ, বিএনপি, নুরু—এরা সবাই একই গোয়ালের গরু।’ কথাটি ভুল নয়। কারণ এরা সাবাই মানব রচিত আঈন দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালনায় বিশ্বাসী। ইসলামের সাথে এদের বিন্দু মাত্র সম্পর্ক নেই। আমরা আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা গণঅধিকার পরিষদকে পরাজয় করলে চলবে না বরং এরা সকলের আত্মা গণতন্ত্র/সেকুলার সিস্টেমটাকেই ভেঙে ফেলতে হবে। অন্যথায় কখনো আমরা সফল হতে পারব না।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন