বাগরাম বিমান ঘাঁটি : এক সময়ের নির্যাতনের কেন্দ্রভূমি হবে অর্থনৈতিক এলাকা

    0
    1278

    ১৯৫০ সালে বাগরাম বিমান ঘাঁটি নির্মাণ করে সোভিয়েত ইউনিয়ন। ৩০ বর্গ মাইল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই ঘাঁটি। ১৯৮০ সালে আফগানিস্তানের উপর আগ্রাসনের শুরু করা হয়েছিল এই ঘাঁটি থেকেই। মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্বের আগ্রাসনের সময়েও বাগরাম বিমান ঘাঁটি দখলদারদের প্রধান ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

    ঘাঁটিটি কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে নির্মিত। তাই এখানে বসেই বিদেশি বাহিনী তাদের বহু বিমান হামলা কিংবা রাত্রকালীন হামলার পরিকল্পনা করেছে। গোয়ান্তানামো-এর পূর্বে আমেরিকান বাহিনীর পরিচালিত সবচেয়ে বিশাল কারাগার এই বাগরাম বিমান ঘাঁটিতেই অবস্থিত ছিল। বন্দীদের উপর বর্বরতা, নির্যাতন এবং শ্লীলতাহানীর ক্ষেত্রে গোয়ান্তানামো কুখ্যাতি অর্জন করেছে। বারবার সংবাদে, ডকুমেন্টারি কিংবা সাবেক বন্দীদের বিবরণে ওঠে এসেছে সেখানকার বর্বরতার কাহিনী।

    আফগানিস্তানে বিদেশি আগ্রাসনের পুরো সময়জুড়ে বাগরাম বিমানবন্দরও ছিল বর্বরতার কেন্দ্রভূমি। নিয়মিত হত্যা, নির্যাতন এবং নৃশংসতা চলতো এই ঘাঁটিতে। তখন বাগরামের নাম শুনলেই প্রত্যেক আফগানের চোখ বিস্ফোরিত হতো। কারণ বাগরাম যেন ছিল মৃত্যু, যন্ত্রণা এবং নির্যাতনেরই অপর এক নাম।

    ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হওয়ার পর, ইসলামি ইমারতের সৈনিকরা বাগরাম বিমান ঘাঁটিও জয় করতে সক্ষম হন। আফগান জনগণের অভূতপূর্ব আত্মত্যাগ এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য কৃতজ্ঞতা। তবে হ্যাঁ, এখনও বহু উন্নতির সুযোগ আছে।

    ইসলামি ইমারত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের আশা নিয়ে এই বিশাল বিমান ঘাঁটিকে একটি অর্থনৈতিক এলাকায় পরিণত করতে চায়। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রাথমিক গবেষণাও সম্পন্ন হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতে, বাগরাম বিমানঘাঁটি অর্থনৈতিক এলাকা হিসেবে খুবই সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। এর সুবিশাল এলাকা এবং অত্যাধুনিক সুবিধা একে অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করতে উপযোগী।

    অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞগণ ইসলামি ইমারতের এই স্ট্র্যাটিজিকে সমর্থন জানিয়েছেন। তারা বিশ্বাস করেন, এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উন্নয়নের জন্য কার্যকর কৌশল। তারা এই আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন যে, বাগরাম বিমান ঘাঁটিকে অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করা হলে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।

    বিভিন্ন কারণে, এই পদ্ধতিটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও গতিশীলতার উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দরকারি। আফগানিস্তানের অসংখ্য কারখানা এবং শিল্প পার্ক বাগরাম বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত। এছাড়াও বাগরাম তার সুবিধাজনক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে আফগানিস্তানের তাজা ফল ও সবজি চাষ অঞ্চলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের কাছাকাছি। এসব অঞ্চলের মধ্যে আছে পারওয়ান, কাপিসা এবং অন্য আরও কিছু জেলা।

    একটি জাতির স্থিতিশীলতা, প্রবৃদ্ধি ও উন্নতির জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং স্বাধীনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়টি উপলব্ধি করে ক্ষমতায় আরোহণ করেই এই বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছেন ইসলামি ইমারত কর্তৃপক্ষ।

    ইসলামি ইমারত অন্যান্য বিষয়াবলির পাশাপাশি দ্রুত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে। বাগরাম বিমান ঘাঁটি নিয়ে ইসলামি ইমারতের কৌশল আফগানিস্তানের অর্থনীতিকে উন্নতি করতে সাহায্য করবে। আর আফগান মুদ্রার মূল্য বজায় রাখতে, দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে, দেউলিয়া হওয়া রোধ করতে এবং কর সংগ্রহে নতুন আফগান সরকারের প্রচেষ্টা এবং সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে অবদান রাখবে।



    [ইসলামি ইমারতের অফিসিয়াল সাইট থেকে অনূদিত]

    অনুবাদক ও সংকলক : সাইফুল ইসলাম



    তথ্যসূত্র :
    1. Bagram Air Base once a sign of tortures and murders, to become an economic zone
    https://tinyurl.com/mryjj838

    মন্তব্য করুন

    দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
    দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

    পূর্ববর্তী নিবন্ধওয়াজিরিস্তানে পাক-তালিবানের সফল ইস্তেশহাদী হামলা: ২৮ শত্রুসেনা হতাহত
    পরবর্তী নিবন্ধকথিত ‘সন্ত্রাসবাদের’ মিথ্যে মামলায় ২০ বছরের কারাদণ্ড, প্রমাণ না থাকায় খালাস