বেসামরিক স্থাপনায় কেনিয়ান বিমান হামলা, শাবাবের বিবৃতি

- নজরুল ইসলাম

0
430

গত ১৮ রবিউল আউয়াল মোতাবেক ৪ সেপ্টেম্বর রাতে কেনিয়ার যুদ্ধবিমান সোমালিয়ার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে জুবা ও জাদু রাজ্যের বুয়ালী (بؤالي) এবং আইল আদী শহরে নৃশংস বোমাবর্ষণ করেছে।

রাত আনুমানিক নয়টার দিকে কেনিয়ার ৪ টি বিমান বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে জুবা রাজ্যের বুয়াল শহরের আশেপাশের এলাকায় বোমাবর্ষণ করে। ক্রুসেডারদের বিমান থেকে চালানো বোমা হামলার ফলে শিশুদের দার আল-হুদা স্কুল, নিরস্ত্র বেসামরিকদের ঘরবাড়ি এবং একটি গাড়ি ধ্বংস হয়। গ্যারেজটি শহরের একজন সুপরিচিত ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন ছিল।

উক্ত বিমান হামলায় যদিও কোন প্রাণহানির ঘটনা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি, তবে বাসিন্দাদের সম্পত্তি এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি রেকর্ড করা হয়েছে।

একই রাতে কেনিয়ার বিমানগুলিও জাদু রাজ্যের আইল আদী শহরে বোমাবর্ষণ করেছে। সেখানে, আনুমানিক রাত ১ টার দিকে তারা শহরের আশেপাশের এলাকাগুলিকে ৩টি অবস্থান লক্ষ্য করে বোমা ফেলে। এর ফলে বাসিন্দাদের সম্পত্তি এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সধিত হয়েছে৷ তবে সেখানেও কোন প্রাণহানির খবর পাওয়া যায় নি।

শাহাদা এজেন্সি কেনিয়ার বোমা হামলায় সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞের কিছু ছবি প্রকাশ করেছে। ছবিতে দার আল-হুদা স্কুলের ছাত্ররা বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ ভবনের পাশে ছিঁড়ে যাওয়া কোরআন হাতে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য রয়েছে। ছবিতে শিশুদেরকে তাদের স্কুলের ধ্বংসাবশেষের আশেপাশে অবস্থান করতে দেখা যায়।

কয়েকটি ছবিতে পার্কিং গ্যারেজে কেনিয়ার বোমা হামলার ফলে সৃষ্ট ধ্বংসের প্রভাবও দেখায়, যেখানে গ্যারেজের পাশে সারিবদ্ধ গাড়িগুলি মারাত্মকভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।

আইল আদী শহরের ছবিগুলির মধ্যে বেসামরিক বাড়িতে বোমা হামলার ফলে সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপের নিচে ঘর এবং আসবাবপত্র দেখা যাচ্ছে। বাসিন্দারা তখন বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার দিকে তাকিয়ে ছিল।

আল্লাহর রহমতে কোন মুসলিমের হতাহতের ঘটনা না ঘটার কারণ এটিও যে, দক্ষিণের রাজ্যগুলোর বাসিন্দারা যখনই আকাশে কেনিয়ান বিমানগুলোর গর্জন শুনতে পেত, তখনই তারা তাদের বাড়িঘর ছেড়ে দূরের এলাকায় আশ্রয় নিতে অভ্যস্ত। আর তারা জানেন যে, শত্রু ক্রুসেডারদের বিমানগুলো সরাসরি বেসামরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে হামলা করে থাকে।

কেনিয়া এর আগেও অসংখ্য বোমা হামলা চালিয়েছে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে রাতের বেলায় বিমান হামলাগুলো চালানো, যার ফলে নিহত ও আহত হয়েছে অসংখ্য বেসামরিক নাগরিক, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

কেনিয়ার বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে একটি মসজিদও ছিল। সেই সাথে হামলার কবলে পড়েছে মসজিদটিতে আশ্রয় নিতে যাওয়া একজন মহিলা এবং তার শিশুরা।

কেনিয়ার এই আগ্রাসি হামলার বিপরীতে আশ-শাবাবের সামরিক নেতৃত্ব কেনিয়ার প্রতি একটি সতর্কীকরণ বিবৃতি জারি করে বলেছে যে, বেসামরিকদের উপর এই কাপুরুষোচিত হামলার জন্য কেনিয়াকে মূল্য দিতে হবে। সোমালিয়ার দক্ষিণে কেনিয়ার ক্রমাগত বোমা হামলার কারণে কেনিয়ার ভূখণ্ডে সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাবে।

যেহেতু আশ-শাবাবের একটি জিহাদি শাখা রয়েছে, আর যেহেতু এটির সোমালিয়ার যুদ্ধের মতো দীর্ঘ গেরিলা যুদ্ধ চালিয়ে নেওয়ার পক্ষে শক্তিশালী জনভিত্তি এবং সরঞ্জাম ও দক্ষতা রয়েছে, সুতরাং এই হামলা কেনিয়ার জন্য খুবই মূল্যসাপেক্ষ হবে, যাদের অর্থনীতি কিনা পর্যটনের উপর অনেক বেশি নির্ভর করে৷”

পর্যবেক্ষকরা মনে করেন যে, কেনিয়ার হারাকাতুশ শাবাব আল-মুজাহিদিন কর্তৃক শরিয়া শাসনের অধীনে পরিচালিত ইসলামী অঞ্চলগুলিতে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা বিষয়টি পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলবে। পাশাপাশি কেনিয়া এবং আশ-শাবাবের মধ্যকার সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করার ক্ষেত্রে এটি শাবাবকে নৈতিক ভিত্তি প্রদান করবে। কেনিয়ার বোমা হামলায় সৃষ্ট সোমালিদের জনসন্তুষ্টি কেনিয়ার বিরুদ্ধে শাবাবের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়াকে বৃহত্তর বৈধতা এবং গ্রহণযোগ্যতা প্রদান করবে।

এইভাবে, কেনিয়ার ক্ষণিকের প্রতিশোধ গ্রহণে একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে না, বরং তা কেনিয়া এবং তার স্বার্থকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আল-শাবাবের লক্ষ্যে পরিণত করবে।

বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে কেনিয়ার বোমা হামলাগুলি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলির নীরবতার মাধ্যমেই ইন্ধন পাচ্ছে। অথচ এই হামলাগুলি বেসামরিকদের জানমালের ক্ষয়ক্ষতিকে স্থায়ী রূপ দিচ্ছে। সোমালি নাগরিকদের বিরুদ্ধে কেনিয়ার লাগাতার যুদ্ধাপরাধের পরেও সোমালি জনগণের বিরুদ্ধে তাদের আগ্রাসনে কথিত বিশ্ব সম্প্রদায় কীভাবে সন্তুষ্টচিত্তে অংশ নিতে পারে, এনিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

twenty − 4 =