সোমালিয়ার বিভিন্ন শহর ও ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছেন শাবাব মুজাহিদিন

0
311

মুসলিমদের কাছে বিজয় ও জিহাদের মাস হিসেবে পরিচিত পবিত্র রমজান মাস। আর এই মাসকে ঘিরে পূর্ব আফ্রিকার দেশ সোমালিয়ার বিভিন্ন শহর ও সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেছেন দেশটির জনপ্রিয় ইসলামি প্রতিরোধ বাহিনী হারাকাতুশ শাবাব আল-মুজাহিদিন।

সেই ধারাবাহিকতায় গত ১১ মার্চ সকালে, হারাকাতুশ শাবাব মুজাহিদগণ হিরান রাজ্যের বলুবার্দি শহরে একটি বিস্তৃত আক্রমণ চালান। ফলে শহরটির বিভিন্ন স্থানে তীব্র লড়াই শুরু হয়। এক পর্যায়ে মোগাদিশু বাহিনী বুলুবার্দি শহরের সামরিক ঘাঁটি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য। ততক্ষণে সামরিক ঘাঁটিতে মুজাহিদদের হামলায় ২ মিলিশিয়া সদস্য নিহত হয় এবং এক অফিসার সহ ৩ সৈন্য আহত হয়।

পশ্চিমা সমর্থিত মোগাদিশু সরকারি বাহিনী যুদ্ধে পরাজিত হয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর, হারাকাতুশ শাবাব মুজাহিদগণ সামরিক সরঞ্জাম সহ সামরিক ঘাঁটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেন।

এর একদিন পর অর্থাৎ গত ১২ মার্চ রাতে সোমালিয়ার মুদুগ রাজ্যের লাসগাকামি এবং সিরগো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেন মুজাহিদগণ। স্থানীয় সূত্রমতে, শাবাব যোদ্ধাদের আগমনের সংবাদ পেয়েই মোগাদিশু সরকারের ভিতু সৈন্যরা এলাকা ২টি ছেড়ে পালিয়ে যায়। একই রাতে মুজাহিদগণ এই রাজ্যের গুরত্বপূর্ণ শহর জারাদারী অবরোধ করেন।

এদিকে গত ১৪ মার্চ মুদুক রাজ্যের হানলাবি শহরে একটি সামরিক ব্যারাকে আকস্মিক আক্রমণ চালান মুজাহিদগণ। এতে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে মোগাদিশু বাহিনী। ফলে বহু সংখ্যক সৈন্য হতাহত হয় এবং অন্যরা পালিয়ে যায়। মোগাদিশু সরকারি বাহিনী ঘাঁটি ছেড়ে পালিয়ে গেলে ঘাঁটি ও হানলাবি শহরের নিয়ন্ত্রণ নেন মুজাহিদগণ।

এদিকে হারাকাতুশ শাবাব মুজাহিদগণ গত ২১ মার্চ বৃহস্পতিবার, দক্ষিণ সোমালিয়ার জুবা রাজ্যের কিসমায়ো শহরের উপকন্ঠে একটি বড়ধরণের সামরিক অপারেশন পরিচালনা করেন। অভিযানটি প্রথমে এই অঞ্চলের বারসাঙ্গুনি শহরে অবস্থিত মোগাদিশু বাহিনীর একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে শুরু হয়। পরে তা আশেপাশের আরও ২টি ঘাঁটিতে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অঞ্চলটিতে শাবাব মুজাহিদিন ও মোগাদিশু বাহিনীর মাঝে তীব্র লড়াই শুরু হয়। একপর্যায়ে মার্কিন যুদ্ধবিমান অঞ্চলটিতে হস্তক্ষেপ করে। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি মোগাদিশু বাহিনীর।

শাবাব মুজাহিদদের তীব্র আক্রমণের সামনে টিকতে না পেরে মোগাদিশু বাহিনী বারসাঙ্গুনি সামরিক ঘাঁটি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। তবে ততক্ষণে মোগাদিশু বাহিনী অনেক দেরি করে ফেলেছে। ফলে মোগাদিশু বাহিনীতে কয়েক ডজন সৈন্য নিহত এবং আরও অসংখ্য সৈন্য আহত হয়। স্থানীয় সূত্রমতে, হতাহতের এই সংখ্যা ৫০ এরও বেশি। সেই সাথে মুজাহিদগণ সামরিক ঘাঁটির সমস্ত সাঁজোয়া যান, অস্ত্র এবং গোলাবারুদ গনিমত লাভ করেছেন।

হারাকাতুশ শাবাব প্রশাসনের সামরিক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন যে, মুজাহিদগণ বৃহস্পতিবারের অভিযান শেষে বারসাঙ্গুনি সামরিক ঘাঁটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। এসময় মুজাহিদদের আক্রমণে মোগাদিশু বাহিনীর অসংখ্য সৈন্য হতাহত হয়েছে এবং আরও অনেক সৈন্য মুজাহিদদের হাতে বন্দী হয়েছে। নিহতদের মধ্যে মোগাদিশু বাহিনীর ৪৩ তম ডিভিশন ও ৫৮ তম ব্যাটালিয়নের কমান্ডারও রয়েছে।

শাবাব মুখপাত্র আরও নিশ্চিত করেছেন যে, এই অভিযানের সময় ঘাঁটিতে আটকা পড়া সেনা সদস্যদের উদ্ধারে পাল্টা আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করে মোগাদিশু বাহিনী। এই লক্ষ্যে মার্কিন-প্রশিক্ষিত সোমালি স্পেশাল ফোর্স এবং মার্কিন বিমান দ্বারা সমর্থিত সরকারি মিলিশিয়ারা এলাকাটিতে হামলা চালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু শত্রু বাহিনীর যৌথ এই সামরিক দলটি মুজাহিদদের অতর্কিত আক্রমণের শিকার হয়। ফলে যৌথ বাহিনীর অন্তত ৫ সৈন্য নিহত এবং আরও ৯ সৈন্য আহত হয়। অন্যরা যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়। এসময় মুজাহিদগণ এই দলটি থেকে কয়েকটি আরপিজি শেল এবং বিভিন্ন অস্ত্র জব্দ করতে সক্ষম হন।

এই অভিযানের একদিন পর আল-কাতাইব মিডিয়া থেকে বারসাঙ্গোনি ঘাঁটিতে মুজাহিদদের পরিচালিত সুইপিং অপারেশনের ৩ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা যায় মুজাহিদগণ সরকারি মিলিশিয়া সৈন্যদের তাড়া করছেন এবং হত্যা করছেন। সেই সাথে বেঁচে যাওয়া সৈন্যদের বন্দী করছেন এবং গনিমত হিসাবে অনেক অস্ত্র শস্ত্র জব্দ করেছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, হারাকাতুশ শাবাব মুজাহিদগণ তাদের এই অর্জনের মধ্যদিয়ে  কিসমায়ো থেকে জালাজদুদ অঞ্চল পর্যন্ত তাদের উপস্থিতি জোরদার করছেন। সেই সাথে মুজাহিদগণ বালদাউইন সহ কেন্দ্রীয় অঞ্চলের গুরত্বপূর্ণ একাধিক শহরকে রাজধানী মোগাদিশু থেকে বিচ্ছিন্ন করার পর অবরোধ করে রেখেছেন। আর ধীরে ধীরে মুজাহিদগণ এসব শহরের দিকে অগ্রগতি করছেন।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধদারসে রমাদান।। দারস-১১। দৈনন্দিন জীবনে সুন্নত পালনে যত্নবান হওয়া।।
পরবর্তী নিবন্ধফিলিস্তিনের জিহাদ || আপডেট – ২৪ মার্চ, ২০২৪