
রবিবার (২১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাজিরা দিতে আনা হয়েছিল বরখাস্তকৃত সেনাকর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে। শতাধিক মানুষকে গুম, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া এই মামলায় ওই দিন সাক্ষ্য দেন তার একসময়ের দেহরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সেনাসদস্য ইমরুল কায়েস।
শুনানি শেষে তাকে ট্রাইব্যুনাল থেকে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় তাকে হাতকড়া বা ডান্ডাবেড়ি ছাড়াই বেশ হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় ট্রা্ব্যুনাল থেকে বের হতে হতে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।
উল্লেখ্য যে, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী গুম ও খুনের সময় জিয়াউল আহসান র্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান ছিল। পরে শেখ হাসিনা সরকারের শেষ দিন পর্যন্ত সে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করে। তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মানুষকে গুম, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
রোববার ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস বলেন, ২০১২ সালের প্রথম দিকে জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে তিনটি মাইক্রোবাসে করে ১১ জনকে নিয়ে পোস্তগোলা আর্মি ক্যাম্পে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের একটি বোটে তোলা হয়। এ সময় একজন পানিতে ঝাঁপ দিলে জিয়াউল আহসানের নির্দেশে তিনি পানিতে নেমে ওই ব্যক্তিকে ধরে আনেন। পরে রশির সাহায্যে তাদের দুজনকে বোটে তোলা হয়।
তিনি বলেন, তখন অন্ধকার থাকায় ওই ব্যক্তিকে চিনতে পারেননি। তার বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ২৬ বছর হবে। পরে বোটটি নদীর মাঝখানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগের মতো সিমেন্টের বস্তা বেঁধে মাথায় গুলি করে ১১ জনকে হত্যা করে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।
ইমরুল কায়েসের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অভিযানে জিয়াউল আহসান, মেজর নওশাদ, স্কোয়াড্রন লিডার সাইফ, কমান্ডার সোহায়েল এবং এডিজি (অপস) মুজিব অংশ নেয়। অভিযান শেষে তারা লাইনে ফিরে যায়।
তথ্যসূত্র:
১। হাস্যোজ্জ্বল জিয়াউল আহসানকে নামানো হলো ট্রাইব্যুনাল থেকে
– https://tinyurl.com/3sb88p6c


