ফিলিস্তিনিদের গণহত্যাকারী ইসরায়েলের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়েছে বুরকিনা ফাসো’র প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ট্রাওরে

0
3

পশ্চিমা আগ্রাসন বিরোধী প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিতি পাওয়া বুরকিনা ফাসো’র প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ট্রাওরে এবার ফিলিস্তিন, লেবানন, সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক গণহত্যা চালিয়ে যাওয়া ইসরায়েলের নতুন রাষ্ট্রদূতকে তার নিজ দেশে স্বাগত জানিয়েছে। ২৬ জুন, ২০২৬ তারিখ আনুষ্ঠানিক ভাবে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণ করে তাকে অভ্যর্থনা জানায় প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ট্রাওরে।

এসময় নবনিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত সাইমন ক্লেমেন্ট সেরোসি এক টুইট বার্তায় জানায়, “বুরকিনা ফাসোর রাষ্ট্রপতি ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ট্রাওরের কাছে আমার পরিচয়পত্র জমা দিতে পেরে আমি বিশেষভাবে সম্মানিত বোধ করছি। এই অনুষ্ঠান ইজরায়েল ও বুরকিনা ফাসোর মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ধারাবাহিকতা তুলে ধরবে এবং এটা দু’দেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন। আগামী বছরগুলিতে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করতে আমি একযোগে কাজ করার দিকে তাকিয়ে রয়েছি।”

উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালের ৫ই আগস্ট ফ্রান্স থেকে স্বাধীনতা লাভের পর মাত্র এগারো মাসের মাথায় ৫ই জুলাই, ১৯৬১ তারিখ ৬ষ্ঠ দেশ হিসেবে ইসরায়েলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে বুরকিনা ফাসো প্রশাসন। মধ্যপ্রাচ্যের এই অবৈধ রাষ্ট্রটির একজন রাষ্ট্রদূত এতদিন অনাবাসিক ভাবে কাজ করে আসলেও এবার সে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে নবনিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত।

আল-কায়েদা পশ্চিম আফ্রিকা শাখা জামা’আত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) এর ধারাবাহিক আক্রমণের মুখে ২০১৫ সালের পর থেকে ফ্রান্স সাহেল অঞ্চলের এই দেশগুলো থেকে তার নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেয়া শুরু করলে, পূর্ব থেকে ফ্রান্সের প্রভাবাধীনে কাজ করা প্রশাসনে একের পর এক আভ্যন্তরীণ অভ্যুত্থান চলতে থাকে। সবশেষ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ট্রাওরে বুরকিনা ফাসো’র রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে।

রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের পর থেকে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ট্রাওরে নেতৃত্বাধীন বুরকিনান জান্তা বাহিনী আল কায়েদা’র জিহাদি ইনসার্জেন্সি দমনের নামে নিজ দেশের জনগণের উপর একাধিক গণহত্যা চালিয়েছে। যার মাঝে উল্লেখযোগ্য হল- কারমা ম্যাসাকার (২০ এপ্রিল, ২০২৩); ফ্রান্স থেকে প্রকাশিত পত্রিকা ‘লিবারেশন’ থেকে উক্ত গণহত্যার কিছু ভিডিও সহ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ট্রাওরে ফ্রান্স এর সাথে সম্পর্ক কমিয়ে রাশিয়ার সাথে বাড়াতে শুরু করে।

তবে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে সম্পর্কে টানাপড়েনের মাঝেও ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক রেখেছে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ট্রাওরে নেতৃত্বাধীন বুরকিনান জান্তা প্রশাসন।


তথ্যসূত্র
1. https://tinyurl.com/2s4cdxtt
2. https://tinyurl.com/5879jpjz
3. https://tinyurl.com/3624hwua

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধকেনিয়া এবং সোমালিয়ার চার ফ্রন্টে শত্রু বাহিনীর বিরুদ্ধে আশ-শাবাবের সফল অভিযান
পরবর্তী নিবন্ধউত্তরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা, পানিবন্দি লাখো মানুষ