
ভারতে উত্তরাখণ্ড রাজ্যের চামোলি জেলার যোশীমঠ শহরে একটি বাড়িতে আরবি পড়ানোর অভিযোগে মুসলিম প্রাইভেট শিক্ষককে হেনস্তা করেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। কুরআন শিক্ষার উদ্দেশ্যে ঐ বাড়িতে মুসলিম শিশুকে আরবি শিক্ষা দিয়ে আসছিলেন ভুক্তভোগী শিক্ষক।
কেবল মাদ্রাসা-মসজিদ ধ্বংস করেও ক্ষান্ত হচ্ছে না উগ্র হিন্দুত্ববাদী সমর্থকরা, মুসলিমদের নিজ বাড়িতে আরবি শিক্ষা দেওয়াও যেন তাদের নিকট অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
৩ জুলাই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, মুসলিম প্রাইভেট শিক্ষককে হেনস্থার উদ্দেশ্যে বাড়ির বাইরে জড়ো হয় উগ্র হিন্দুত্ববাদী বজরং দলের সদস্যরা। কোনও প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও তারা ভুক্তভোগী শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি ‘অবৈধ মাদ্রাসা’ পরিচালনার অভিযোগ তুলে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বাড়িটি তদন্তের জন্য উগ্রবাদীরা দাবি জানায়।
ঘটনাটি মুসলিম ও অন্যান্য সচেতন শ্রেণীর লোকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, একটি বাড়ির ভিতরে ব্যক্তিগত ধর্মীয় শিক্ষাকে কেন আইনি তদন্তের আওতায় আনা হবে ? ব্যক্তিগতভাবে কুরআন শিক্ষার মতো যে কোনও বৈধ শিক্ষা প্রদান বা গ্রহণের অধিকার সকল নাগরিকের রয়েছে।
কেউ কেউ যুক্তি দিয়েছেন, যদি অনিবন্ধিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা মাদ্রাসা চালু থাকে, তবে তা তদন্তের জন্য কর্তৃপক্ষ রয়েছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের তদন্ত বা আইন প্রয়োগের দায়িত্ব কে দিয়েছে?
যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বদলে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা তাদের অভিযোগ সংঘর্ষের রূপে প্রকাশ করছে, যা তাদের মুসলিম বিদ্বেষের সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকগণ।
ঘটনাটি ইঙ্গিত দেয় যে, আইনি বৈধতা সত্ত্বেও ভারতে আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ শিক্ষার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অপচেষ্টা চালাচ্ছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী কর্মীরা।
ভিডিও: https://twitter.com/i/status/2072891166035763347
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/5dk96ujk


