
গাজায় তথাকথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরেও দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা ও গুলিবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর, সোমবার বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলায় এক শিশু ও দুই নারীসহ অন্তত চার ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ১১ জন।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবু লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ট্যাংক থেকে গুলিবর্ষণে ১১ বছরের এক শিশু শহীদ হয়। নাসের হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, সোমবার শিশুটির মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে শিশুটির বুকে গুরুতর আঘাত লাগে এবং পরে তার মৃত্যু হয়।
আল-শিফা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উত্তর গাজার জাবালিয়ায় পৃথক ঘটনায় একটি ড্রোনের গুলিতে মাথায় আঘাত পেয়ে মোহসেন আহমেদ বাহজাত নামে এক ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন। একই দিন মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থীশিবিরে ইসরায়েলি ট্যাংক থেকে গুলিবর্ষণে ৩১ বছর বয়সী ফিদা তুতাহ শহীদ হন। আল-আওদা হাসপাতাল তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিদা তুতাহ তার সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হয়েছিলেন। সন্তানদের স্কুলে দিয়ে ফেরার পথে সন্ত্রাসী ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। এর কয়েক ঘণ্টা পর খান ইউনিস শহরের কেন্দ্রেও ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আরও এক ফিলিস্তিনি শহীদ হন।
আল-মাওয়াসিকে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জন্য ‘নিরাপদ এলাকা’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও সেখানে বারবার সন্ত্রাসী ইসরায়েলি হামলার ঘটনা ঘটছে। প্রায় এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চলছেই।
গাজায় মানুষের হতাশা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। সেখানে মানুষের মানবিক পরিস্থিতিও অত্যন্ত সংকটাপন্ন। অবরুদ্ধ গাজার বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধবিরতির জন্য নির্ধারিত হলুদ রেখার ভেতরে সন্ত্রাসী ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে বহু ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।
আলজাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর ৩৪৪ দিনের মধ্যে ৩০৮ দিনই গাজায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এর পরও যুক্তরাষ্ট্র বলে আসছে যুদ্ধবিরতি এখনও বহাল রয়েছে। ২০২৫ সালের ১৯ ও ২৯ অক্টোবর ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুটি দিন। তখন ইসরায়েলি হামলায় মোট ১৫৪ জন শহীদ হন।
তথ্যসূত্র
1. Child among four Palestinians killed in Israeli attacks on Gaza
– https://tinyurl.com/ytjpztbf


