
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) আসামের ধুবরি জেলায় আদানি পাওয়ার লিমিটেডের একটি ৩২০০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তবে প্রকল্পটি এমন একটি জমিতে তৈরি হচ্ছে, যেখানে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রায় ১,৪০০ বাঙালি মুসলিম পরিবারের বাড়িঘর উচ্ছেদ করা হয়েছিল।
প্রকল্পটির আওতায় রয়েছে চাপর রাজস্ব সার্কেলের চারুয়াবাখরা, চিরাকুটা-১ ও চিরাকুটা-২ এবং সন্তোষপুর গ্রাম। প্রায় ১১৫৭ একর কথিত সরকারি জমি থেকে মুসলমানদের উৎখাত করা হয়, প্রথমে তা রাজ্য সরকারের অধীনস্থ ‘আসাম পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড’কে দেওয়া হয়, পরবর্তীতে তা তুলে দেওয়া হয় আদানি পাওয়ার লিমিটেডের হাতে।
এই নিষ্ঠুর উচ্ছেদ অভিযানে অন্তত ৩-৪ দশক ধরে ওই এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ১০ হাজার বাঙালি মুসলিম সম্পূর্ণ গৃহহীন ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উচ্ছেদ হওয়া মুসলমানদের অনেকেই ইতিপূর্বে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনের শিকার হয়েছিলেন। তারা ভিটেমাটি হারিয়ে বাঁচার তাগিদে এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
অপরদিকে হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রকল্পটি আসামের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প, যা রাজ্যের বিদ্যুতের সম্পূর্ণ চাহিদা পূরণ করবে।
মুসলিমদের গণ-উচ্ছেদের আইনি বৈধতা ও পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত ১৪ জুলাই প্রস্তাবিত তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পটিকে পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়ার সুপারিশ করেছিল ভারতের পরিবেশ মন্ত্রণালয়। পরিবেশগত ছাড়পত্রের আবেদনে আদানি গ্রুপ জানায়, প্রকল্পের নির্দিষ্ট স্থানটিতে কোনও লোকালয় বা জনবসতি নেই এবং সেই কারণে পুনর্বাসন সংক্রান্ত কোনও দাবি বা দায়বদ্ধতাও নেই। কিন্তু আদানি গ্রুপের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে চ্যালেঞ্জ করেছেন বাস্তুচ্যুত স্থানীয় বাসিন্দাগণ।
উচ্ছেদের শিকার আব্দুর রশিদ শেখ জানিয়েছেন, আসাম সরকার বলপূর্বক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। ফলে ১৪০০ মুসলিম পরিবার পুনর্বাসন ছাড়াই চরম দুর্দশায় দিনপার করছেন। তিনি জানান, ৩৫০০ বিঘা খাসজমি বলপূর্বক দখল করা হয়েছে। এছাড়া বাসিন্দাদের কাছে বৈধ নথিপত্র ছিল এরূপ প্রায় ১৭০০ বিঘা জমিও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
জমির কাগজপত্র জমা নেওয়া সত্ত্বেও মালিকদের অন্তত ৫০ শতাংশ বাসিন্দা এখনও কোনও ক্ষতিপূরণ পাননি। দুর্গতদের পুনর্বাসনের নামে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাত্র ৩০০ বিঘা জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় অধিবাসীরা সেখানে যেতে অস্বীকার করেন, কারণ জমিটি ব্রহ্মপুত্র নদীর বুক ঘেঁষে গড়ে ওঠা এক নিচু ও মারাত্মক প্লাবনপ্রবণ এলাকা।
আসামে হিন্দুত্ববাদী সরকারের মদদে ২০১৬ সাল থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক উচ্ছেদ অভিযানে পুলিশের গুলিতে অন্তত ৮ মুসলিম প্রাণ হারিয়েছেন। একদিকে কর্পোরেট স্বার্থ রক্ষায় হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ, আর অন্যদিকে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কয়েক হাজার বাঙালি মুসলিমকে অমানবিকভাবে নিজ দেশেই উদ্বাস্তু করছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকার।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/khh658u7


