
ভারতের উত্তরপ্রদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক মুসলিম শিক্ষককে গুলি করে হত্যা করেছে এক হিন্দু যুবক। পরে হত্যাকারী নিজেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। সে দাবি করেছে, নিহত শিক্ষক কথিত ‘লাভ জিহাদ’ এর প্রতি উৎসাহ দিয়েছিল।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) উত্তরপ্রদেশের বিজনোর জেলায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিক্ষক নওশাদ আহমেদ (৪৩) পুরুষোত্তমপুর গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় স্কুলের কাছেই নওশাদের ওপর হামলা হয়। অভিযুক্ত আগে থেকেই তার অপেক্ষায় ছিল, নওশাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছানো মাত্রই তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় হামলাকারী, পরে দ্রুত মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায় সে।
গুরুতর আহত নওশাদকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে নাজিবাবাদ থানায় আত্মসমর্পণ করে হত্যাকারী হিন্দু যুবক গৌরব চৌধুরী (৩২)। সে পুরানপুর গড়ি গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় কৃষক। আত্মসমর্পণের সময় সে একটি দেশি পিস্তল পুলিশের কাছে জমা দেয়।
পুলিশের কাছে গৌরব দাবি করেছে, সে নওশাদকে তিনবার গুলি করেছে। নওশাদ কথিত ‘লাভ জিহাদ’-এর প্রচারের সাথে জড়িত ছিল বলেও সে অভিযোগ করেছে।
তবে নওশাদ ও গৌরবের মধ্যে কয়েক দিন আগে ব্যক্তিগত বিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে জানায় পুলিশ। সেই বিরোধ হত্যাকাণ্ডের কারণ ছিল কি না, সেটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনাটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকারের শাসনামলে মুসলিমদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/k55m2ku8


