
ভারত-অধিকৃত জম্মুর কারিয়ানি তালাব এলাকায় অস্থায়ীভাবে বসবাসরত রোহিঙ্গা মুসলিম পরিবারগুলো নিজেদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভেঙে ফেলতে শুরু করেছেন। দখলদার প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের নোটিশ জারির পর রোহিঙ্গারা জায়গাটি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ফলে বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই শত শত মুসলিম পরিবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার মুখে পড়েছেন।
গত মঙ্গল ও বুধবার ওই এলাকায় দেখা যায়, রোহিঙ্গা বাসিন্দারা নিজেদের তৈরি ঝুপড়ি, কাঠের কাঠামো ও দোকানপাট ভেঙে ফেলছেন। প্রশাসনের বুলডোজার হামলার ভয়ে বাসিন্দারা ঘরের মালামাল গুছিয়ে নিচ্ছেন।
বাসিন্দারা জানান, এখন তাদের অনেকেই রাস্তায় পড়ে আছেন। কোথায় যাবেন, সে বিষয়ে তাদের কোনও নিশ্চয়তা নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোহিঙ্গা বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা গরিব শ্রমিক। দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করি। এখন আমরা কোথায় যাব, সেটাই জানি না।’
এক রোহিঙ্গা কমিউনিটি সদস্য জানান, প্রায় ৮০ থেকে ৯০টি অস্থায়ী ঘরে বসবাসরত ৩৫০ থেকে ৫০০ পরিবারকে চলে যেতে বলা হয়েছে। ফলে প্রায় ১৮০০ রোহিঙ্গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কিছু কিছু পরিবার এই বসতিতে ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে বসবাস করছেন।
জমির মালিকদের নোটিশ
সূত্রমতে জানা যায়, রোহিঙ্গা পরিবারগুলো যে জমিতে বসতঘর ও দোকান তৈরি করেছিল, সেই জমির মালিকদের দখলদার ভারত প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে মালিকদের প্রশ্ন করা হয়েছে, তারা কেন বিদেশিদের নিজেদের জমিতে বসবাসের সুযোগ দিয়েছেন। একই সাথে নোটিশে অস্থায়ী ঝুপড়ি ও দোকানগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক রোহিঙ্গা শরণার্থী বলেন, ‘জায়গাগুলো বসবাসের উপযোগী করতে আমরা নিজেরা অর্থ খরচ করেছি। এখন সবকিছু ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় আমাদের সেই অর্থও বৃথা গেল।’
শরণার্থীদের আরও অভিযোগ, এমনিতেই তাদের মৌলিক সেবার সুযোগ সীমিত। নিয়মিত পানি, বিদ্যুৎ সেবা পাওয়া যায় না। যা পাওয়া যায়, তা দিয়েই কোনোভাবে চলতে হচ্ছিল। আর এখন নিজদের বানানো ঘর নিজেদের হাতে ভেঙে ফেলতে হচ্ছে।
মায়ানমার থেকে জীবন বাঁচাতে পলায়ন
বাসিন্দারা জানান, তাদের কাছে জাতিসংঘের শরণার্থী কার্ড রয়েছে। মায়ানমারে বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের সহিংসতা ও নিপীড়নের কারণে তারা দেশটি ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন।
এক শরণার্থী বলেন, সেই সময় পরিস্থিতি খুব খারাপ ছিল। মানুষ জীবন বাঁচাতে যে যেদিকে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে, সেদিকেই চলে গেছে।
রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই দিনমজুর, হোটেল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক কাজে জীবিকা নির্বাহ করেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জম্মু ও কাশ্মীরে মোট ৭,৬৫৬ জন রোহিঙ্গাকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে জম্মু অঞ্চলের ১০ জেলায় ৬,৭৩৭ জন এবং কাশ্মীর উপত্যকার ১০ জেলায় ৯১৯ জন রোহিঙ্গা রয়েছেন বলে সরকারি তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
রোহিঙ্গা হিউম্যান রাইটস ইনিশিয়েটিভ নামে সংগঠনের ভাষ্য, রোহিঙ্গাদের একটি বাস্তুচ্যুতির চক্র তৈরি হয়েছে—পরিবারগুলোকে বর্তমান ঘর থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, অথচ আইনগত ও নিরাপদভাবে কোথায় গিয়ে বসবাস করবে, তার কোনও স্পষ্ট ব্যবস্থা নেই।
তাদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে শিশু, নারী ও প্রবীণরাও রয়েছেন। ফলে বিকল্প আবাসনের অনুপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/2k223eyr


