৭ই অক্টোবর নিয়ে হামাসের বিবৃতি: ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে

0
0

২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবরের ঘটনার তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে হামাস তাদের প্রতিরোধ সংগ্রামের প্রতি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং ঘোষণা করেছে যে, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা এই সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।

গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বুধবাধ “আল-আকসা ফ্লাড” অভিযানের তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে হামাস এই অভিযানকে আন্দোলনের ইতিহাসে একটি “ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ” হিসেবে অভিহিত করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৭ই অক্টোবরের ঘটনা ছিল বছরের পর বছর ধরে চলা ইসরায়েলি দখলদারিত্ব, হামলা, অবরোধ, পবিত্র স্থানগুলোর ইহুদীকরণ, পরিকল্পিত গণহত্যা, ফিলিস্তিনিদের অধিকার হরণ এবং আল-আকসা মসজিদকে লক্ষ্য করে নেওয়া বিভিন্ন পরিকল্পনা ও ফিলিস্তিনি বন্দীদের প্রতি আচরণের বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া।

এতে আরও বলা হয়েছে যে, “আল-আকসা ফ্লাড” অভিযান গাজায় “বীরত্ব, প্রতিরোধ ও জাতীয় সংহতি”র বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের বিষয়ে আন্তর্জাতিক উদাসীনতার অবসান ঘটিয়েছে।

ফিলিস্তিনি ও মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি হামাসের আহ্বান

বিবৃতিতে হামাস গাজা, পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমের ফিলিস্তিনিদের প্রশংসা করে উল্লেখ করে যে, ফিলিস্তিনি জনগণকে বাস্তুচ্যুত করার পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয়েছে। এসময় যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, তারা যেনো ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তাবলী পালনে বাধ্য করে। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে বর্ণিত রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করে এবং গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো, পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করা এবং যুদ্ধের অবসানে ভূমিকা রাখে।

বিবৃতিতে হামাস উল্লেখ করে যে, যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া চলা সত্ত্বেও ইসরায়েল গাজায় এক ধরণের “নীরব গণহত্যা” চালিয়ে যাচ্ছে। কেননা যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে গাজায় প্রায় ১,৫০০ ফিলিস্তিনি শহিদ হয়েছেন। এতে পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে ইসরায়েলি হামলার বিষয়টিরও উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, সেখানে তল্লাশি অভিযান, ধরপাকড় ও বাড়িঘর ধ্বংসের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।এছাড়াও ফিলিস্তিনি জনগণ এবং তাদের সম্পত্তি ও ভূমির ওপর দখলদার ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা আরও তীব্র হয়েছে।

হামাস জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি শহিদ এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। সংগঠনটি এই সংখ্যাগুলোকে নথিভুক্ত গণহত্যাজনিত অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছে।

হামাস তাদের বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও অন্যান্য ইসরায়েলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং “দায়মুক্তি রোধ” নিশ্চিত করে।

হামাস তাদের এই বিবৃতিতে দখলদার ইসরায়েল ও ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বয়কট অভিযানের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে, সেই সাথে ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট শিক্ষা, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই বয়কটের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে হামাস বিভিন্ন ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক শক্তিকে নিয়ে একটি যৌথ জাতীয় কৌশল প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি জোর দিয়ে বলেছে যে, ইসরায়েলি সরকারের নীতিমালার মোকাবিলায় এ ধরনের কৌশল অত্যন্ত জরুরি।

হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় নিজেদের ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনেও প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা জানিয়েছে, চুক্তির সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে তারা মধ্যস্থতাকারীদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করবে।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধআশ-শাবাবের হাতে মোগাদিশু বাহিনীর সেনা ঘাঁটির পতন: গুরুত্বপূর্ণ শহর হীসকে বিজয়
পরবর্তী নিবন্ধবান্নু ও উত্তর ওয়াজিরিস্তানে একই দিনে শত্রু বাহিনীর বিরুদ্ধে আইএমপি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের দুই সফল অভিযান