
উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে একটি সামরিক ঘাঁটিতে একটি ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে ইসলামি প্রতিরোধ বাহিনী তেহরিক-ই-জিহাদ পাকিস্তান টিজেপি। এতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর অন্তত ৫১ সৈন্য নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র মতে, ১২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ভোররাত ৩:২০-এর দিকে খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলের ডেরা ইসমাইল খান শহরের দারাবান এলাকায় এই আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির মিডিয়া জানায়, প্রতিরোধ যোদ্ধারা প্রথমে একটি গাড়ি বোমা দিয়ে সামরিক কেন্দ্রে ইস্তেশহাদী আক্রমণ চালান, তারপর বেশ কয়েকজন প্রতিরোধ যোদ্ধা সামরিক কেন্দ্রে ঢুকে পাকিস্তানী সেনাদের সাথে লড়াই শুরু করেন। অন্তত ৬ জন মুজাহিদ ঘাঁটিতে প্রবেশ করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী এদিন অন্যান্যবারের মতোই বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করে দাবি করে যে, এই আক্রমণে তাদের ৩ সেনা নিহত এবং ১৫ সেনা আহত হয়েছে। মুজাহিদদের আক্রমণটি সফলভাবে প্রতিহত করার দাবিও করে তারা। কিন্তু পাকিস্তান প্রশাসনের “জরুরি উদ্ধার পরিষেবা সংস্থা”র কর্মকর্তা আয়াজ মাহমুদ এদিন দুপুরে জানান, “অভিযানে ২৪ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছে। আমরা এখনো কেন্দ্রের ভিতরে গুলির শব্দ শুনতে পাচ্ছি”।
একই তথ্য দুজন সামরিক কর্মকর্তার বরাতে নিশ্চিত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্সও।
অন্যদিকে, তেহরিক জিহাদ পাকিস্তান (টিজেপি) একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি এবং ২ মিনিটের একটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করে। ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধান ফটকে বিকট শব্দে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের পর প্রায় অচেতন হয়ে কেন্দ্রের ভিতরে পরে আছে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। আর সে অবস্থাতেই বেশ কিছু সেনা সদস্যকে টার্গেট করে করে হত্যা করেন টিজেপি যোদ্ধারা।
په ډیره اسماعیل خان کې په پوځ باندي استشهادي برید او د هغي لږي صحنې.
د حکومت دروغجنې ادعاوې او حقیقت ستاسو په وړاندې. pic.twitter.com/bVE819iQpV— Hashmi (@hashmi_014) December 12, 2023
টিজেপির এমন ভিডিওর পর পাকিস্তান সামরিক বাহিনী স্বীকার করতে বাধ্য হয় যে, অভিযানে তাদের ২৩ সৈন্য নিহত এবং আরও ২৮ সৈন্য আহত হয়েছে। অপরদিকে স্বাধীন সংবাদ সূত্রগুলো জানায়, এই অভিযানে অন্তত ৫১ সেনা সদস্য নিহত এবং আরো ৩৪ এরও বেশি সৈন্য আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২ জন ক্যাপ্টেন ও ১ জন লেফটেন্যান্ট কর্নেলও রয়েছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, যুদ্ধ প্রায় ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত চলেছে। আর এই যুদ্ধে অংশ নেওয়া মুজাহিদদের মধ্যে ১ জন ছিলেন ইস্তেশহাদী এবং অন্য আরও ৩ জন ছিলেন ইনগিমাসী যোদ্ধা। শত্রুসেনা হতাহতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানা গেছে টিজেপি সূত্রে।
উল্লেখ্য, টিজেপি ৪ নভেম্বর ভোরে পাঞ্জাবের মিরানওয়ালি বিমান ঘাঁটিতে তাদের প্রথম যুগান্তকারী অভিযানটি চালিয়েছিল। সেই অভিযানে দেশটির সামরিক বাহিনীর ১টি ট্যাংক সহ ছোট বড় অন্তত ৪০ টি বিমান ধ্বংস হয়েছিল। নিহত হয়েছিল বিমান বাহিনীর অন্তত ৩০ অফিসার ও সৈনিক। সেসময়ও প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের মাত্র ৪ টি বিমান ধ্বংসের দাবি করেছিল, যে দাবি পরবর্তীতে টিজেপির বিবৃতিতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।


