
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও গাজায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। ৬ মে, বুধবার সন্ধ্যায় উত্তর ও দক্ষিণ গাজার বিভিন্ন এলাকায় চালানো বিমান হামলায় অন্তত ৫ ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
গাজার চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলের আল-দারাজ এলাকায় বেসামরিক লোকজনের একটি সমাবেশ লক্ষ্য করে হামলা চালালে এক ফিলিস্তিনি শহীদ হন এবং তিন শিশুসহ কয়েকজন আহত হন। আল-আহলি আরব হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আল-দারাজ এলাকার জাবালিয়া বাসস্টেশন সংলগ্ন স্থানে হামলার পর আহতদের হাসপাতালে আনা হয়।
অন্যদিকে, গাজা সিটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জায়তুন এলাকায় সালাহউদ্দিন মসজিদের কাছে একটি পরিবারের সদস্যরা তাঁবু স্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে একই পরিবারের তিন ফিলিস্তিনি শহীদ হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকার আল-মাওয়াসি অঞ্চলে একটি পুলিশ গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে এক পুলিশ সদস্য শহীদ হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার সময় আশপাশে অবস্থানরত আরও কয়েকজন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন।
গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দখলদার ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে পুলিশ সদস্য ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে, যাতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। মন্ত্রণালয় এ হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে এবং যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারীদের জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৮২৪ ফিলিস্তিনি শহীদ এবং ২,৩১৬ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন এবং গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।
তথ্যসূত্র
1. 5 killed in Israeli airstrikes in Gaza amid ceasefire violations
– https://tinyurl.com/3ph9nux7


