
ভারতের কেরালা রাজ্যে জানুয়ারি ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত এই ১৫ মাসে ৯০৯টি ইসলাম বিদ্বেষমূলক ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ইসলামোফোবিয়া রিসার্চ কালেক্টিভ (আইআরসি) নামক গবেষণা সংস্থা এই ঘটনাসমূহের রেকর্ড একত্রিত করেছে।
এইসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে মুসলিমবিরোধী ঘৃণামূলক বক্তব্য, বৈষম্যমূলক আচরণ ও ইসলামবিরোধী মিথ্যা তথ্য প্রচারণা।
এগুলোর মধ্যে ২০২৫ সালে ৬৫৯টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। অপরদিকে ২০২৬ সালের ১ম ৩ মাসে ২৫০টি ঘটনা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
২০২৫ সালে কমপক্ষে ৬০টি ঘৃণামূলক বক্তব্য দিয়ে অভিযুক্তদের তালিকার শীর্ষে রয়েছে শ্রী নারায়ণ ধর্ম পরিপালানা (এসএনডিপি) জোগাম সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ভেল্লাপল্লি নাটেসান।
এছাড়া ৫০ এরও অধিক ঘৃণামূলক বক্তব্য দিয়েছে রাজনৈতিক বক্তা অ্যাডভোকেট এ. জয়শঙ্কর এবং বিজেপি নেতা পিসি জর্জ।
আইআরসি এর প্রতিবেদনের জানানো হয়, বিশেষত আইনি পদক্ষেপের অভাবের কারণে ইসলাম বিদ্বেষমূলক ঘটনাগুলোর মাত্রা ও ধরণ ছিল উদ্বেগজনক। বিচার ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা থাকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই সব ঘটনায় কেউ অভিযোগ দায়ের করে নি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগ দায়ের করা হলেও পুলিশের সদিচ্ছার অভাব লক্ষ্যনীয়। এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট এই ব্যাপারগুলোতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মুসলিম নেতা, রাজনীতিবিদ, সংগঠন, ধর্মীয় প্রতীক ও ধর্মীয় স্থানকে টার্গেট করে ঘৃণামূলক প্রচারণা ছড়ানো হয়েছে।
অল ইন্ডিয়া রেডিও এর প্রযোজক কে. আর. ইন্দিরার বিরুদ্ধে মুসলিম বিদ্বেষ ছড়ানোর গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে একটি ফেসবুক পোস্টে সে লিখেছিল, কেবল হিন্দুত্ববাদী শোভাযাত্রা বা মিছিল করা যথেষ্ট নয়, মুসলিমদের বিরুদ্ধে হিন্দুদের অস্ত্র তুলে নিতে এবং ব্যাপকভাবে হ্যাকিং আরম্ভ করতে হবে।
এর আগে ২০২০ সালে আসামের জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) প্রেক্ষাপটে মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যা শুরু করা উচিত বলে সে মন্তব্য করেছিল। সেসময় এক পোস্টে সে আসামের বাঙালি মুসলিমদের নাগরিকত্ব বাতিল করে তাদেরকে ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রাখার পক্ষে উস্কানি দিয়েছিল। তবে এসব ঘটনায় অভিযুক্ত ইন্দিরার বিরুদ্ধে জোরালো কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নি। বরং এই উগ্রবাদীর বিরুদ্ধে মামলাকারী বিপিদাস পুলিশের হেনস্থা ও ভয়ভীতির শিকার হয়েছিল।
আইআরসি এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কেরালার পরিস্থিতি হতাশাজনক, যেখানে ইসলাম বিদ্বেষ ছড়ানোয় অভিযুক্তরা অবাধ স্বাধীনতা পায়, অপরদিকে সুবিচার প্রার্থীদের টার্গেট করা হয়।
হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ও ব্যক্তি ছাড়াও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, বিধায়ক ও ক্ষমতাসীন বামপন্থী নেতাদের অনেকের বিরুদ্ধে মুসলিম বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/j2htkr7n


