মালির রাজধানী বামাকো অবরোধ এবং সামরিক বিভাজন নিয়ে জেএনআইএম এর বিবৃতি

0
17

আল-কায়েদা পশ্চিম আফ্রিকা শাখা জামা’আত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন (জেএনআইএম) মুখপাত্র আবু হুযাইফা আল-বাম্বারি (হাফিযাহুল্লাহ) একটি নতুন ভিডিও বিবৃতি জারি করেছেন। এই বিবৃতিতে জেএনআইএম মুখপাত্র মাঠ পর্যায়ে ও গণমাধ্যমে তাঁদের কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপের রূপরেখা তুলে ধরেছেন এবং বেসামরিক বিষয় পরিচালনার দায়িত্বে থাকা একটি ঐক্যবদ্ধ প্রশাসন হিসেবে জেএনআইএম-কে উপস্থাপন করেছেন।

মালির জান্তা প্রশাসনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক বিভাজন:

বিবৃতি অনুযায়ী, জেএনআইএম মালির সামরিক প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। মুখপাত্র তার বক্তব্যে বলেন, দেশটির সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সম্প্রতি পরিচালিত কয়েক ডজন গ্রেপ্তারের লক্ষ্য ছিল “বিশ্বাসঘাতকরা”। তিনি বক্তব্যে জান্তাকে এই শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করেন এবং এই কাজের জন্য কর্তৃপক্ষকে স্বাগত জানান। কেননা তিনি জান্তার মধ্যে ক্রমবর্ধমান এই সামরিক বিভাজনকে জেএনআইএম এর জন্য সুবিধাজনক বলে মনে করেন।

আবু হুযাইফা আল-বাম্বারি বিশ্বাস করেন যে, এই পদক্ষেপগুলো শত্রুকে দুর্বল করছে এবং সরাসরি তা মুজাহিদদের লাভবান করছে।

রণক্ষেত্রে আধিপত্যের বার্তা:

মুখপাত্র তাঁর বক্তব্যে জেএনআইএম এর সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা এবং দেশের গভীরে পৌঁছানোর মতো সক্ষমতার উপর জোর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৫শে এপ্রিল, মালি জুড়ে পরিচালিত জেএনআইএম এর সমন্বিত সামরিক অপারেশনটি নিজস্ব সক্ষমতা ব্যবহার করেই চালানো হয়েছে। এই অভিযানে যেকোনো বিদেশি সম্পৃক্ততার কথাও তিনি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “বিজয় কেবল আল্লাহর কাছ থেকেই আসে।”

রাজধানী বামাকো অবরোধ এবং চলাচলের নতুন নিয়মাবলী:

বিবৃতিতে জেএনআইএম নিজেদেরকে কার্যত একটি কর্তৃপক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করেছে এবং রাজধানীর চারপাশে চলাচলের জন্য কঠোর শর্ত আরোপ করেছে।

জেএনআইএম ঘোষণা করেছে যে, তাঁরা বামাকো এবং এর বাহিরে আটকা পড়া জরুরি চিকিৎসা সহায়তা প্রয়োজন এমন রোগী ও মানবিক সহায়তাপ্রার্থীদের যাতায়াতের অনুমতি দেবে। এক্ষেত্রে শর্ত দেওয়া হয় যে, যাতায়াত শুধুমাত্র মুজাহিদদের স্থাপিত চেকপয়েন্ট দিয়ে এবং প্রধান সড়কগুলোতে নিয়ম মেনেই করতে হবে।

মুখপাত্র কাঁচা রাস্তা ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে, চেকপয়েন্ট এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টাকারী প্রতিটি ব্যক্তি মুজাহিদদের হামলার একটি বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

আসন্ন যুদ্ধক্ষেত্র:

বিবৃতিতে একাধিক পক্ষকে লক্ষ্য করে সতর্কবার্তাও জারি করা হয়। বলা হয়, জান্তা বাহিনী, তাদের মিত্র মিলিশিয়া এবং বিদেশি ভাড়াটে বাহিনীকে মুজাহিদিনরা প্রতিটি ফ্রন্টে ধাওয়া করা অব্যাহত রাখবেন। আর যারা নিজেদের দ্বীন ও জীবন ধ্বংস হওয়া থেকে বাঁচতে চায়, সেসমস্ত সৈন্য এবং ডোজো মিলিশিয়া সদস্যদের অবিলম্বে যুদ্ধ থেকে সরে আসার আহ্বান জানানো হয়।

মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, নিপীড়িতদের সমর্থনের নীতির অধীনে বামাকো, সেনু এবং কাটি অঞ্চলে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং তা আরও সম্প্রসারিত হবে। আর রাজধানী বামাকোতে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য অবরোধ চলমান থাকবে, যা রাজধানীতে খাদ্য ও জ্বালানি উভয়ইকেই প্রভাবিত করবে।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধদেশে বেকারত্ব কমাতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের উদ্যোগ ইমারাতে ইসলামিয়ার
পরবর্তী নিবন্ধভিডিও || ভারতের মধ্যপ্রদেশে ‘অবৈধ দখল’ অভিহিত করে ৫ মুসলমানের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন