
চাঁদপুরে গরুর মাংস রান্না নিয়ে বিরোধের জেরে পাঁচ বছরের এক মুসলিম শিশুর শরীরে পাশবিকভাবে গরম পানি ঢেলে পুড়িয়ে দিয়েছে এক হিন্দু নারী। এ ঘটনায় আহত শিশুর মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে আদালত তাকে শাস্তি না দিয়ে জামিনে মুক্তি দিয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর শহরের একটি বাসায় মুসলিম পরিবারটি ভাড়া থাকত। পাশের বাসায় বিথী রাণী নামে এক হিন্দু নারীও বসবাস করত। বাসায় মুসলিম পরিবারটি মাঝে মধ্যে গরুর মাংস রান্না করলে ওই নারী তাদের সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ত। এমনকি হিন্দু নারী মুসলিম পরিবারটিকে গরুর মাংস রান্না না করতে নিষেধও করত।
একপর্যায়ে মুসলিম নারী বিষয়টি বাসার দারোয়ান ও কেয়ারটেকারকে জানালে তারা অভিযুক্ত নারীকে এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকতে বলেন। প্রয়োজনে বাসা ছেড়ে দেওয়ার কথাও জানানো হয়।
এ ঘটনার এর পর থেকেই ওই হিন্দু নারী মুসলিম পরিবারটির সদস্যদের অনুসরণ করতে থাকেন। একদিন বাসা ফাঁকা পেয়ে সে মুসলিম পরিবারের পাঁচ বছরের শিশু ছেলেকে ডেকে নেয় এবং তার শরীরে গরম পানি ঢেলে দেয়। এতে শিশুটির বুক ও পিঠের অংশ গুরুতরভাবে পুড়ে যায়।
ঘটনার পর মুসলিম শিশুটির মা চাঁদপুরে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। তবে প্রায় পাঁচ মাস পর হাইকোর্ট তাকে শাস্তি না দিয়ে জামিনে মুক্তি দেয়।
জানা গেছে, অভিযুক্ত নারী বর্তমানে চাঁদপুরে ‘মাতৃছায়া’ নামের একটি ক্লিনিকে চাকরি করে। তার বাড়ি হাইমচর উপজেলায়।
পাঁচ বছরের শিশুকে নৃশংসভাবে আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার পর তাকে কোন প্রকার শাস্তি না দিয়ে জামিন দেয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুসলিম পরিবারটি।
তথ্যসূত্র:
https://tinyurl.com/4xtym72y


