চবিতে সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের দু’পক্ষে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া, আহত ৭

0
83

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ৭ সন্ত্রাসী কর্মী আহত হয়। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুর রব হল থেকে এ ঘটনার সূত্রপাত। এরপর শনিবার সারাদিন উভয় পক্ষ রামদা, রড এবং লাঠিসোঠা নিয়ে দুই হলের সামনে অবস্থান নিয়ে ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হলে তল্লাশি চালাচ্ছে আওয়ামী দালাল পুলিশ।

বিবাদমান একটি পক্ষ শাখা সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের অনুসারী ‘সিএফসি’ ও অপর পক্ষটি সাবেক দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান বিপুলের অনুসারী ‘ভিএক্স’। সিএফসি পক্ষটি শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের এবং ভিএক্স সিটি মেয়র আ জ ম নাসিরের উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে শহীদ আব্দুর রব হলের টেলিভিশন কক্ষে মিটিং করাকে কেন্দ্র করে এই দুটি পক্ষের কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়।

সমকালের সূত্রে জানা যায়, ভিএক্স পক্ষের নেতাকর্মীরা এ এফ রহমান হলে রাত ১১ টায় মিটিংয়ে বসে। তবে যাদের পরীক্ষা চলছে তারা রব হলে নিজ কক্ষে পড়ছিল। সাড়ে ১১ টার দিকে ভিএক্স পক্ষের কর্মীদের কক্ষে গিয়ে সিএফসি কর্মীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয় এবং রড দিয়ে পেটায়। এতে ভিএক্স পক্ষের কর্মী ও গণিত বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের সুইডেন আহম্মেদ আকাশ, তানজিম সাদমান, একই বর্ষের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের জাহিদ হাসান, ইতিহাস বিভাগের একই বর্ষের একরামুল হক রিয়াদ, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ আহত হয়। তাদের মধ্যে সুইডেন আহম্মেদ আকাশকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠানো হয়।

এ ঘটনা অন্যান্য হলে জানাজানি হলে সিএফসি কর্মীরা শাহ আমানত হলের সামনে এবং ভিএক্স কর্মীরা সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে অবস্থান নেয়। এরপর তারা কয়েকবার ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া করে এবং ইট-পাটকেল, কাচের বোতল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ উভয় পক্ষকে ধাওয়া দিয়ে দুই হলের ভেতরে যেতে বাধ্য করে। দুই পক্ষের কাচের বোতল ও ইট পটকেল নিক্ষেপে সিএফসি পক্ষের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের মাস্টার্সের শরীফ উদ্দীন ও প্রান্ত আহত হয়। তাদের সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ভিএক্স পক্ষের নেতা প্রদীপ চক্রবর্তী দুর্জয় বলেছে, শহীদ আবদুর রব হলে আমাদের কয়েকজন জুনিয়রকে ধারালো রাম দা, রড দিয়ে মারধর করেছে সভাপতির অনুসারীরা। এর আগে দিন একটা ঝামেলা হয়েছিল সভাপতির সঙ্গে বসে আমরা সমাধান করেছিলাম। সে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আর ঝামেলা করবে না কেউ। একদিন না যেতেই তার কর্মীরা এ ধরনের হামলা করেছে। তাই তার সঙ্গে বসার বা সমঝোতা করার প্রয়োজন মনে করছি না।

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেছে, ঘটনার এখনও সমাধান হয়নি। তবে আমরা সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছি।

‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এস এম মনিরুল হাসান বলেছে শুক্রবার রাতে একটা ঝামেলা হয়েছিল সেটা এখনও কোন সমাধান হয়নি। উপাচার্যের সঙ্গে বসে দোষীদের বিষয়ে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন