
নাটোরের একটি হাসপাতালে এক মুসলিম নারীকে তিন হিন্দু যুবক মিলে জোরপূর্বক ধর্ষণের ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে ওই নারীকে ব্ল্যাকমেইলও করে তারা।
গত রোববার (৭ জুন) দিবাগত রাত ১০ টার দিকে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের ছয় তলার সিঁড়ি ঘরে এই ঘটনা ঘটে। ধর্ষক হিন্দু যুবকরা হলো- অমিত (২৩), অনিল (২৩) ও প্রাঙ্গণ (২৪)। অভিযুক্ত তিনজনই হাসপাতালের আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী (সুইপার)।
ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের কোনো শাস্তি না দিয়ে ছেড়ে দেয় এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে ঘটনাটি ধীরে ধীরে জানাজানি হয়। পরে মঙ্গলবার (৯ জুন) ভুক্তভোগী ওই নারীর বাবা বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, নাটোর সদর উপজেলার বাসিন্দা ভুক্তভোগী ওই নারী দুই বছর বয়সী অসুস্থ কন্যাকে গত ৫ জুন নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। তার স্বামী পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। কাজের জন্য তার স্বামী বাইরে থাকায় ভুক্তভোগী নারী হাসপাতালে মেয়ের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন।
ভুক্তভোগী ওই মুসলিম নারী জানান, গত রোববার (৭ জুন) রাত ১০টার দিকে আসামি অমিত ওষুধ দেয়ার জন্য ডাক্তার খোঁজ করছে বলে ডেকে নিয়ে যায়। এভাবে কৌশলে ঐ মহিলাকে নির্জন ষষ্ঠ তালায় নিয়ে গেলে আরও দুই সুইপারের সহায়তায় প্রথম সুইপার ঐ মাকে ধর্ষণ করে ও বাকি দুইজন ভিডিও করে। এ সময় তারা ভিডিও দেখিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে ব্ল্যাকমেইল করে এবং তাদের সঙ্গেও শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ ও হুমকি দেয়।
এদিকে শিশু ওয়ার্ডে দীর্ঘক্ষণ মাকে না পেয়ে শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে বিষয়টি ওয়ার্ডে দায়িত্বরত নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের নজরে আসে। তারা ওই নারীর খোঁজ শুরু করেন এবং হাসপাতালের আনসার সদস্যদের সাহায্য চান। পরবর্তীতে আনসার সদস্য আল আমিন ও সালাউদ্দিন হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে ছয়তলার সিঁড়িতে তাদের অবস্থান শনাক্ত করেন। এরপর তারা হাসপাতাল স্টাফদের নিয়ে সেখানে গিয়ে অভিযুক্তদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়ে যান। সেখানে তারা ভুক্তভোগী নারী ও অভিযুক্তদের জবানবন্দি নেন। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয় এবং হাসপাতালে নার্সদের কক্ষে নিয়ে গিয়ে বিষয়টি কাউকে না জানার জন্য ওই ভুক্তভোগী নারীকে নিষেধ করে।
ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, তিনি পরদিন সকালে হাসপাতালে এসে স্ত্রী ও কন্যাকে ওয়ার্ডে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তিনি পুরো ঘটনা জানতে পারেন।
জানা যায়, এত বড় একটি অপরাধের ঘটনা জানার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো হাসপাতাল চত্বর থেকে তাদের সহজে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে, যা নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো প্রকার সহযোগিতা না পেয়ে মঙ্গলবার ( ৯ জুন) ভুক্তভোগী নারীর বাবা বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় অভিযুক্ত অমিতসহ তিন সুইপারের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তিনজনকে আটক করা হয়।
তথ্যসূত্র:
১। নাটোরে চিকিৎসাধীন শিশুর মাকে হাসপাতালে ধর্ষণের অভিযোগ, তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মী গ্রেপ্তার
– https://tinyurl.com/mr23fm4z


