খালের পরিবর্তে ধানের জমিতে কোটি টাকা বাজেটের ব্রিজ বানাচ্ছে রাজউক

0
1117

মাদানী এভিনিউখ্যাত ১০০ ফুট রোডের পাঁচখোলা খালের ওপর ব্রিজ নির্মাণের নামে বারবারই ভুল করছে রাজউক। সেখানে স্রোতোবাহী খালটির পানিপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করে সড়ক নির্মিত হয়েছে, আবার অদূরেই ফসলি জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে বেরাইদের তিন নম্বর ব্রিজটি।

রাজউক সূত্র জানায়, ২০১০ সালে প্রগতি সরণি থেকে বালুনদী পর্যন্ত ৬.৭১ কিলোমিটার ইন্টারসেকশন সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২৩১ কোটি পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্প ২০১৩ সাল নাগাদ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে প্রকল্পটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সম্প্রসারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী মাদানী এভিনিউ থেকে বালু নদী পর্যন্ত সড়ক ও ব্রিজগুলো প্রশস্তকরণ এবং বালু নদী থেকে শীতলক্ষ্যা নদী পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ (প্রথম পর্ব) প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় নির্ধারণ হয় এক হাজার ২৫৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

সম্প্রসারিত এ প্রকল্পের আওতায় ১০০ ফুটের মাদানী এভিনিউয়ে তিন নম্বর ব্রিজ নির্মাণের ক্ষেত্রেই বাধে জটিলতা। সেখানে পাঁচখোলা খালের ওপর ব্রিজ নির্মাণের কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে খালটি ভরাট করে ১০০ ফুট প্রশস্ত রোড নির্মাণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে খাল পেরিয়ে অন্তত দেড়শ গজ পূর্ব দিকের ফসলি জমিতে খাদ খনন করা হয় এবং এ খাদের ওপরেই চলে ব্রিজ নির্মাণের কাজ।

সম্প্রতি পাঁচখোলা খালের সঙ্গে ঘুরপথে খননকরা খাদের সংযুক্তি ঘটানো হয়েছে- এক্ষেত্রেও ব্যক্তি মালিকানার ফসলি জমি অবৈধভাবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগী একরাম আলী, আবদুর রহমান, মাজম আলীসহ কয়েকজন জানান, সর্বশেষ সিটি জরিপ অনুযায়ী ৯০৮, ৯০৯ ও ৯২৪ নম্বর দাগেই তাদের পূর্বপুরুষের জায়গা-জমি। যুগ যুগ ধরেই এসব জমি চাষাবাদের মাধ্যমে তাদের জীবিকা নির্বাহ হয়। পাঁচখোলা খালসংলগ্ন থাকায় এসব জমিতে প্রতি বছর দুই দফা ধান আবাদ এবং প্রচুর পরিমাণ সবজি উৎপন্ন হতো। কিন্তু রাজউকের সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় হঠাৎ করেই সেসব ফসলি জমিতে খাদ বানিয়ে তার ওপর ব্রিজ নির্মাণের বিশাল কর্মযজ্ঞ চলতে থাকে। এ ব্যাপারে রাজউকের কাছে বারবার অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা মিলছে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যৌথ উদ্যোগে সরেজমিন সার্ভে সম্পন্ন হলেও সে বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বরং ব্যক্তিমালিকানার জমিতেই ব্রিজ নির্মাণ কর্ম পরিচালনা করতে দেখা গেছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এলাকাবাসীর ন্যায্য দাবি-দাওয়া ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের তাগিদপূর্ণ নির্দেশনা মোটেও আমলে নেওয়া হয়নি। বরং তিন নম্বর ব্রিজটির সম্প্রসারিত নির্মাণ কাজও ফসলি জমিতে শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন