প্রেস রিলিজ || রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কার্যালয়, হারাকাতুশ শাবাব আল-মুজাহিদীন | সোমালিয়াতে আমেরিকার ম্যাসাকার ||৫ রজব ১৪৪১ হিজরি / ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ইংরেজি

2
744
প্রেস রিলিজ || রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কার্যালয়,  হারাকাতুশ শাবাব আল-মুজাহিদীন | সোমালিয়াতে আমেরিকার ম্যাসাকার ||৫ রজব ১৪৪১ হিজরি / ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ইংরেজি

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন:

وَلَا يَزَالُونَ يُقَاتِلُونَكُمْ حَتَّىٰ يَرُدُّوكُمْ عَن دِينِكُمْ إِنِ اسْتَطَاعُوا ﴿٢١٧﴾

“তারা কখনোই তোমাদের সাথে যুদ্ধ থামাবে না যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের ধর্ম থেকে ফিরে আসো (অর্থাৎ ত্যাগ করো)” (সুরা বাকারা: ২১৭)।

’হয় তোমরা আমাদের সাথে নয়তো তোমরা সন্ত্রাসীদের সাথে’, এটাই ছিল ২০ বছর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের সুস্পষ্ট বার্তা। বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের ড্রোন হামলার মাধ্যমে বিনা হিসাবে মানুষ মারা সেই কর্মপন্থারই অনুসরণ. আল-শাবাব এর সাথে যুদ্ধের অজুহাতে সম্প্রতি দক্ষিণ এবং মধ্য সোমালিয়াতে লাগামহীন রক্তপাতের মিশন শুরু করেছে. বিরতিহীন বিমান হামলা এবং বিচারহীন নৈশ অভিযান এবং গুমের ত্রাসে সোমালিয়ার মানুষ আজ আতংকিত।

সোমালিয়ার মুসলিমদের উপর মার্কিন আগ্রাসন অবাক করার মত বিষয় নয়। অবাক করার মত বিষয় হচ্ছে তাদের বিরামহীন নির্লজ্জ মিথ্যাচার ও নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ হত্যা করে তাদের সন্ত্রাসী বানিয়ে দেওয়ার নির্মম প্রচেষ্টা। ৯০ এর দশকে সোমালিয়ায় মার্কিন আগ্রাসনের শুরু থেকেই মার্কিন সেনাবাহিনীর নিলর্জ্জ মিথ্যাচার এবং অজস্র অসংলগ্ন সংবাদ বিজ্ঞপ্তি তাদের বিশ্বাসযোগ্যতাকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর অজস্র যুদ্ধাপরাধের অসংখ্য প্রমাণ থাকা সতে¦ও ক্রুসেডাররা নিলর্জ্জভাবে অস্বীকার করে আসছে যার মাধ্যমে তাদের নৈতিক দূর্বলতা ও চারিত্রিক অবক্ষয় পুরো দুনিয়ার সামনে ফুটে উঠেছে। যখনই ক্রুসেডারদের হত্যাযজ্ঞের খবর সামনে আসে তখনই টঝঅঋজওঈঙগ সবকিছু অস্বীকার করে একটি রেডিমেড প্রেস বিজ্ঞপিÍ প্রকাশ করে এবং তদন্তের আশ^াস দেয়। দুঃখজনকভাবে দীর্ঘ ৩ দশকে একটি তদন্তও সম্পন্ন হয়নি বরং মুসলিমদের উপর বোমার বৃষ্টি অনবরত চলছে; যেন মুসলিমদের জীবন মূল্যহীন।
বাস্তবতা হল সোমালিয়ায় মার্কিনিদের আগ্রাসন নিষঠুর, দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী। তাদের অপরাধগুলো অগুনতি যার মধ্যে আছে ছোট ছোট নিষ্পাপ শিশুদের অপহরণ, হাসপাতালে বিমান হামলা, পুরো পরিবার নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া এবং নির্দয়ভাবে নারী, শিশু এবং গোত্রপতিদের হত্যা। এইচ এস এম পরিসংখ্যান অফিস এর হিসেব অনুযায়ী গত ৩৪ মাসে মার্কিন সেনাবাহিনীর ৮২.৭ শতাংশ এর বেশি হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল নিরস্ত্র সাধারণ জনগণ। হামলার শিকার জনগোষ্ঠীর বৃহত্তর অংশ ছিল সাধারণ কৃষক (৩৭%), নারী ও শিশু (২৪.৩%) এবং যাযাবর গোষ্ঠী (২১.৪%)। এমনকি মানসিক প্রতিবন্ধী এবং বৃদ্ধদেরই নিস্তার নেই আমেরিকার ড্রোন হামলা থেকে। জিলিব শহরে তাদের সাম্প্রতিক হামলা যাতে একজন একুশ বছর বয়সী মানসিক প্রতিবন্ধী নিহত হয় এবং তার আশি বছর বয়সী বৃদ্ধা দাদী আহত হয় তারই প্রমাণ বহন করে। বাছবিচারহীন এবং অবিরাম ড্রোন হামলা মুসলিম জনগোষ্ঠীর রক্তের স্রোত বইয়ে দিয়েছে এবয় বসতি ও গবাদি পশুর নিদারুণ ক্ষতি কওে চলেছে।
ইসলামী বিলায়াত জুবা এবং লেয়ার শামিলের সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্থদের পরিবারদের হরকত আল শাবাব আল মুজাহিদীন জানায় সমবেদনা। আমরা দয়াময় আল্লাহর কাছে আকুতি জানাচ্ছি যেন দয়াময় নিহতদের শহীদদেও কাতারে কবুল করে নেন। আল্লাহ যেন আহতদের দ্রুত সুস্থ করে দেন এবং তাদের পরিবারদের ধৈর্য এবং শান্তি দান করুন। জেনে রাখুন, মার্কিনিদের ড্রোন হামলা কোন বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয় বরং এগুলো তাদের মনের গভীরে প্রোথিত বিদ্বেষেরই নিয়মতান্ত্রিক বহিঃপ্রকাশ। তাদের এ বিদ্বেষ বিশেষ করে তাদের জন্য যারা আল্লাহ প্রদত্ত শরীয়াহকে বেছে নিয়েছে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন:
وَمَا نَقَمُوا مِنْهُمْ إِلَّا أَن يُؤْمِنُوا بِاللَّـهِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ ﴿٨﴾
“তারা তাদেরকে শাস্তি দিয়েছিল শুধু এ কারনে যে তারা প্রশংসিত, পরাক্রান্ত আল্লাহর প্রতি বিশ^াস স্থাপন করেছিল।” (আল বুরুজ: ৮)
ইসলামের শৈশবে মদীনার মুসলিমদের ন্যায় ইসলামী বিলায়াত এর মুসলিমরাও ধৈর্য ও অবিচলতার এক অনন্য উদাহরন পেশ করেছে। ইন শা আল্লাহ, তাদেও রক্ত এবং আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। তাদের পুরষ্কার আল্লাহর কাছে সংরক্ষিত আছে। আমরা এই সুযোগে ইসলামী বিলায়াতের গভর্নরদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি যেন তারা দ্রুততার সাথে ক্ষতিগ্রস্থদের সাহায্যে তৎপর হয়।
অফিস অব পলিটিকস এন্ড বিলায়াত ধন্যবাদ জানাচ্ছে সেসব মুসলিমদের যারা অফিসের সাথে যোগাযোগ করেছে এবং প্রতিবাদ জানিয়েছে মার্কিনিদের নৃশংস হামলার বিরুদ্ধে। সোমালিয়া এবং পূর্ব আফ্রিকার মুসলিমদের জন্য এটা বুঝা অতীব জরুরী যে আমেরিকার আধিপত্যবাদী পররাষ্ট্রনীতি শুধু হরকত আল শাবাব আল মুজাহিদীনকে শত্রু মনে কওে না বরং মার্কিনিদের যুদ্ধ ইসলাম এবং সকল মুসলিমদের বিরুদ্ধে চাই সে যোদ্ধা হোক বা না। মুসলিমদের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে সোমালিয়ায় মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাড়ানো।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন:
وَقَاتِلُوا الْمُشْرِكِينَ كَافَّةً كَمَا يُقَاتِلُونَكُمْ كَافَّةً ۚ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّـهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ ﴿٣٦﴾
“আর মুশরিকদেও সাথে যুদ্ধ কর সমবেতভাবে যেমন তারাও তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে সমবেতভাবে। আর মনে রেখো আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে রয়েছেন।” (আত তাওবা: ৩৬)
অনাদিকাল থেকেই আল্লাহর দ্বীনের প্রতি আনুগত্য ও ভক্তি সোমালিয়দের বিশ্বের জাতিগুলোর মধ্যে সাতন্ত্র্য দান করেছে। তাদের উঁচু আত্মমর্যাদাবোধ কখনই তাদের অন্যায়ের সামনে মাথা নত করতে দেয়নি আর এটাই আজ তাদের বৈশ্বিক ক্রুসেডারদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। হারাকাত আল শাবাব আল মুজাহিদীন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ মুসলিমদেও জান ও মাল রক্ষার্থে সকল পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য, সোমালিয়ার পবিত্র ভূমি নাপাক কাফিরদের থেকে মুক্ত করতে, মুসলিমদের রক্তের বদলা নিতে এবং আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত জিহাদ চালিয়ে যেতে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন:
وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ لِلَّـهِ ۖ فَإِنِ انتَهَوْا فَلَا عُدْوَانَ إِلَّا عَلَى الظَّالِمِينَ ﴿١٩٣﴾
“আর তোমরা তাদের সাথে লড়াই কর, যে পর্যন্ত না ফিতনার অবসান হয় এবং আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়। অতঃপর যদি তারা নিবৃত হয়ে যায় তাহলে কারো প্রতি কোন জবরদস্তি নেই, কিন্তু যারা যালেম (তাদের কথা আলাদা)। (আল বাকারা: ১৯৩)
আমেরিকার জেনে রাখা দরকার মুসলিম উম্মাহর যুবকেরা প্রস্তুত, বাল্লিদুগল এবং মান্ডা বে আক্রমণের যোদ্ধাদের মত নিজেদের প্রাণ অকাতরে বিলিয়ে দিতে। তারা প্রস্তুত মার্কিন আগ্রাসন থেকে উম্মাহকে রক্ষা করতে নিজেদের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতে। একমাত্র আল্লাহই আমাদের হেফাযতকারী এবং আল্লাহই আমাদের বিজয়ের ওয়াদা দিয়েছেন।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন:
إِنَّا لَنَنصُرُ رُسُلَنَا وَالَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ يَقُومُ الْأَشْهَادُ ﴿٥١﴾ يَوْمَ لَا يَنفَعُ الظَّالِمِينَ مَعْذِرَتُهُمْ ۖ وَلَهُمُ اللَّعْنَةُ وَلَهُمْ سُوءُ الدَّارِ ﴿٥٢﴾
”আমি সাহায্য করব রসূলগণকে ও মুমনিগণকে র্পাথবি জীবনে ও সাক্ষীদরে দন্ডায়মান হওয়ার দিবসে। সে দিন জালেমদের ওযর-আপত্তি কােন উপকারে আসবে না, তাদরে জন্যে থাকবে অভিশাপ এবং তাদরে জন্যে থাকবে মন্দ গৃহ । ” (আল গফির: ৫১-৫২)


ডাউনলোড করুন:

PDF

https://archive.org/details/translation_2020_20200305

https://ia601500.us.archive.org/24/items/translation_2020_20200305/Translation-.pdf

https://www.mediafire.com/file/8ekxl15jpb8ao4h/Translation-.pdf/file

https://mega.nz/#!MmgwWYZb!M7x1cbj1fvbhadkR_muLglyGO0l5KoU2PxbUrOE4mwA

https://file.fm/u/xwxay8y6

Docx

https://archive.org/details/translation_2020_20200305_1630

https://archive.org/download/translation_2020_20200305_1630/translation_2020_20200305_1630_archive.torrent

https://mega.nz/#!Rmh3mYIb!ugV-mQzRvOVuXdC8GcNzgNt2BjaHuQUZ5EWuEb3Fz1o

https://www.mediafire.com/file/fbmgtmy0i0hi1o3/Translation-.docx/file

https://file.fm/u/h8gwtvjn

2 মন্তব্যসমূহ

  1. আসসালামু আলাইকুম। বর্তমানে সারা বিশ্বে তালেবান ও তানজিম আলকায়দা ও তাদের অধিনে থাকা মুজাহিদদের আওতায় কি পরিমান ভুমি বা কত কিলোমিটার দখলে আছে যদি সেটার সচ্ছ একটা ম্যাপ বা হিসাব আমাদের সামনে তুলে ধরা হত তাহলে খুব ভাল লাগত। যেমন কয়েক বছর আগে একবার প্রকাশ করা হয়েছিল। আশাকরি বিষয়টা নিয়ে আল ফিরদাউসের কর্মরত ভায়েরা ফিকির করবেন ইনশাআল্লাহ। জাযাকিমুল্লাহু খইরন।

  2. আসসালামু আলাইকুম ,সম্মানিত ভাইরা ! আপনাদের এ লেখায় কিছু শাব্দিক ভুল আছে। হয়ত ব্যাস্ততার কারনে তেমন ভাবে দেখা হয়নি।কিন্তু এই কারনে আমাদের পড়তে বেশ অসুবিধে হচ্ছে।দয়া করে ঠিক করে দয়ার আবেদন রইল!! এ ছাড়াও কিছুদিন পূর্বে আরো কিছু সংবাদে কিছু ভুল দৃষ্টি গোচর হয়েছিল। একটু খেয়াল রাখলে ভালো হত।আল্লাহ আমাদেরকে তার দ্বীনের জন্য কবুল করুন। আমীন।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন