ভারতের অর্থনীতি সঙ্কটে: ধসে পড়ছে ইয়েস ব্যাংক

0
431

ভারতের ইয়েস ব্যাংকের শেয়ারের মূল্য শুক্রবার ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত নেমে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেয়ার পর এবং দেশের চতুর্থ বৃহত্তম এই ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটির পতন ঠেকাতে অর্থ উত্তোলনের পরিমাণ সীমিত করে দেয়ার পর শেয়ারের মূল্যের ওই পতন হয়।

রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) এই পদক্ষেপের কারণে সমস্যাকবলিত ব্যাংকিং খাতে শেয়ার বিক্রি করে দেয়ার প্রবণতা শুরু হয়। এতে করে ২০১৮ সালের পরে রুপির মান দুর্বলতম পর্যায়ে নেমে যায়।

বৃহস্পতিবার দিনের শেষের দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই ঘোষণা দেয়ার পর ইয়েস ব্যাংকের বাইরে গ্রাহকরা লাইন দেয়। আরবিআই-এর ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৩০ দিনের মধ্যে গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ৫০,০০০ রুপি টাকা ব্যাংক থেকে উঠাতে পারবে।

ভারতের আর্থিক সিস্টেমের তারল্য সঙ্কট নিয়ে যে উদ্বেগ রয়েছে, এই সংবাদের কারণে সেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এক বছরের কিছু বেশি সময় আগে একই ধরণের পরিস্থিতিতে ভারতের বৃহত্তম ‘ছায়া ব্যাংক’ আইএলঅ্যাণ্ডএফএস প্রায় পতনের দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিল।

ছায়া ব্যাংকিং খাতের সমস্যার সামনে ইয়েস ব্যাংক বেশ বড় আকারে উন্মুক্ত হয়ে পড়েছিল। পর্বত প্রমাণ খেলাপি ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হয়ে নতুন পুঁজি গড়ে তোলার জন্য বেশ কিছু কাল ধরেই সংগ্রাম করে আসছে এই ব্যাংকটি।

আইআইএফএফ সিকিউরিটিজের আভিমান্যু সোফাত বলেছেন, “বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না এবং এই প্রবণতাটা ক্ষুদ্র ব্যাংক ও অ-ব্যাংক আর্থিক কোম্পানিগুলোর ক্ষতি করবে”।

সোফাত ব্লুমবার্গ নিউজকে বলেন, “আরবিআই কত দ্রুত উদ্ধার পরিকল্পনা গ্রহণ করে, সেটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ কর্মকাণ্ডের উপর অব্যাহত নিয়ন্ত্রণ চলতে থাকলে সেটা অনিশ্চয়তা তৈরি করবে”।

আরবিআই এ জন্য ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চলে আসা মারাত্মক ব্যবস্থাপনা ইস্যু ও চর্চাকে’ দায়ি করেছে। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলেও উল্লেখ করেছে তারা।

তবে, যে সব গ্রাহকরা তাদের অর্থ উত্তোলনের জন্য সারি বেঁধেছেন, তারা এই বক্তব্যে আশ্বস্ত হতে পারেননি।

শিক্ষার্থী ও ইয়েস ব্যাংকের অ্যাকাউন্টধারী দেবিকা নয়াদিল্লীতে টাকা উঠানোর জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিল। সে এএফপিকে বললো যে, “এই মুহূর্তে পরিস্থিতিটা স্পষ্ট নয়। সে কারণে কিছু মানুষ আতঙ্কিত হয়ে উঠেছে। এমনকি এই মুহূর্তে আমিও কিছুটা আতঙ্কিত”।

মুম্বাই-ভিত্তিক আইনজীবী ভার্শা গান্ধী এএফপিকে বলেন, “১৫০ রুপি দরে ইয়েস ব্যাংকের ১৫টি শেয়ার কিনেছিলাম আমি। এখন সেগুলোর দাম ১৫ রুপি। আমার বিনিয়োগের উপর এটা বড় আঘাত এবং এমনকি আমার পুঁজিটাও এখন আটকা পড়ে আছে”।

২৭ বছর বয়সী গান্ধী বলেন, “আমি এখন দেখার অপেক্ষায় আছি যে, আরবিআইয়ের পদক্ষেপে কোন ইতিবাচক প্রভাব পড়ে কি না। কিন্তু স্টকের দর পড়ে যাওয়ায় এরই মধ্যে বিপুল ক্ষতি হয়েছে”।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন