কুড়িগ্রামে সাংবাদিক নির্যাতনে নেই সুষ্ঠু তদন্ত

0
620
কুড়িগ্রামে সাংবাদিক নির্যাতনে নেই সুষ্ঠু তদন্ত

কুড়িগ্রামের সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগানকে মধ্যরাতে ধরে নিয়ে নির্যাতন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড প্রদানের ঘটনায় সারা দেশে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তাকে নির্যাতন সাংবাদিক সমাজের কণ্ঠ রোধ করার অপচেষ্টা এমনই বলছে সবাই। খবরঃ যুগান্তরের

সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধ করা হলে জনগণ সঠিক তথ্য জানবে কী করে? এ ঘটনার সুষ্টু তদন্তে দেরি করা হলে অন্য সাংবাদিকের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনে এর প্রভাব পড়তে পারে। ভালো সাংবাদিকরা সব ধরনের হুমকি উপেক্ষা করে সত্য প্রকাশে অটল থাকেন।

এছাড়া মফস্বল সাংবাদিকদের অতিরিক্ত ঝুঁকির বিষয়টিও বহুল আলোচিত। এ অবস্থায় অবাধ তথ্য প্রবাহের স্বার্থে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাংবাদিকরা সার্বিক সহযোগিতা পাবেন, এটাই সবাই আশা করে। কিন্তু সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের ক্ষেত্রে যা ঘটেছে তাতে নতুন করে অনেক প্রশ্নের সৃষ্টি হতে পারে।

তাকে রাতের বেলা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে অন্যত্র ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষ নানা রকম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তাগুত বাহিনীর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ড দেয়ার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট।

বর্তমানে জামিনে থাকা আরিফুল ইসলাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তাকে এনকাউন্টারের হুমকি দেয়া হয়েছিল। তিনি কাকুতি-মিনতি করে প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন তাদের কাছে। তারা তাকে বারবার কলেমা পড়তে বলেছিলেন।

আরিফুলের অভিযোগ, আরডিসি অকথ্য ভাষায় তাকে গালিগালাজ করেছেন। পরে হাত ও চোখ বাঁধা অবস্থায় জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের একটি কক্ষে নিয়ে তার ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। আরিফুল আরও অভিযোগ করেছেন, চোখ বাঁধা অবস্থায় তার কাছ থেকে জোর করে কয়েকটি কাগজে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে।

আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। গত বছর কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসির কর্মকাণ্ড নিয়ে আরিফুল ইসলাম যে প্রতিবেদন লিখেছিলেন তাতে তার ওপর কেউ ক্ষুব্ধ হয়েছিল কিনা, এটাও এক প্রশ্ন।

উল্লেখ্য, কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসির দায়িত্ব পালনকালে একটি পুকুর সংস্কার করা হলে ডিসির নামে ওই পুকুরের নামকরণের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনমত তৈরির চেষ্টা করেছেন কেউ কেউ। এভাবে ডিসির পক্ষে জনমত তৈরির রহস্যও উদঘাটন করা দরকার।

কুড়িগ্রামের ডিসির ক্ষমতার অপব্যবহারের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রশ্ন হল, ডিসির বিরুদ্ধে অনিয়ম পাওয়া গেলে তাকে কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করাই কি যথেষ্ট? অবাধ তথ্যপ্রবাহের স্বার্থে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে, এটাই সবার প্রত্যশা।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন