এবার তোরণ নির্মাণ নিয়ে সন্ত্রাসী আ.লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১৫

0
216
এবার তোরণ নির্মাণ নিয়ে সন্ত্রাসী আ.লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১৫

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় তোরণ নির্মাণকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় উভয়পক্ষের অন্তত ১৪ জন নেতাকর্মী আহত হয়। এ ছাড়া একজন নিহত হয়েছে।

আজ রোববার দুপুরে উপজেলার বাউফল থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত নেতাকর্মীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির হোসেন ও পটুয়াখালী জেলার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল বাউফল) মো. ফারুক হোসেনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাউফল থানার সামনের ব্রিজের ঢালে ডাকবাংলোর কাছে প্রতি বছর জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ সমর্থিত নেতাকর্মীরা বিশেষ দিন উপলক্ষে তোরণ নির্মাণ করে আসছে। আগের নির্মাণ করা একটি তোরণ সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় আম্পানে উপড়ে পড়ে।

এ সুযোগে বাউফল পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক জুয়েলের সমর্থিত কর্মীরা ওই স্থানে তোরণ নির্মাণ করার চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে আ স ম ফিরোজ সমর্থিত পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নাজিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম ফারুক দলীয় কর্মীদের নিয়ে কাজে বাধা দেয়।

এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল পৌঁছে ইব্রাহিম ফারুকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে মেয়র গ্রুপের নেতাকর্মীরা চেয়ারম্যান ইব্রাহিম ফারুকের কর্মীদের ওপর হামলা করে। এতে জসিম (৩৪), শামিম (২৫), পৌর যুবলীগ সভাপতি মামুন খান (৪৭) ও ইয়ার খান (৪৩) আহত হয়। তারা সবাই প্রধান হুইপ সমর্থিত কর্মী।

সংঘর্ষের খবর উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে প্রধান হুইপ সমর্থিত উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম ফয়সাল আহম্মেদ মনির হোসেন মোল্লা তার নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উভয়পক্ষের কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় প্রধান হুইপ সমর্থিত কর্মী তাপস দাস (৩৪) ইমাম হোসেন (২৩) ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হলে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাসাপাতালে নেওয়া পর কতর্ব্যরত চিকিৎসক রাতে তাপস দাসকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুবলীগ কর্মী তাপসের ভাই ছাত্রলীগ নেতা রাজিব দাস। তিনি জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রাত সাড়ে সাতটায় মারা যান তাপস।

ঘটনাস্থলে প্রধান হুইপ সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব হাওলাদার পৌছাঁলে ইউএনও ও সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন উভয়পক্ষের নেতাদের নিয়ে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেয়।

এ বিষয়ে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নাজিরপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ইব্রাহিম ফারুক দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, ‘থানা ডাকবাংলোর সামনে সেতুর মুখে তারাই তোরণ নির্মাণ করে আসছেন। আর পৌর মেয়রের তোরণ থানার পশ্চিম পাশে করে আসছে। তাহলে হঠাৎ করে তারা কোন কারণে আমাদের স্থানে তোরণ নির্মাণ করতে এলো।’

কারণ জিজ্ঞাসা করতেই মেয়র সমর্থিত নেতাকর্মীরা তার সাথের কর্মীদের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে বলেও জানান তিনি।

পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক জুয়েল জানান, তিনি করোনাভাইরাসের ওপর সচেতনতামূলক একটি সৌজন্য তোরণ করতে গেলে চেয়ারম্যান ইব্রাহিম ফারুক ও তার লোকজন এতে বাধা দেয়। এ বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা চলছিল। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন তাকে ও চেয়ারম্যান ইব্রাহিম ফারুককে নিয়ে থানায় আলোচনার জন্য বসেন। পরে বের হয়ে দেখেন চেয়ারম্যান সমর্থিত লোকজন তার দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে আহত করেছে।
সূত্র: আমাদের সময়

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন