নিজেদের দলের উপর হামলা করলো সন্ত্রাসী যুবলীগ নেতা

0
300
নিজেদের দলের উপর হামলা করলো সন্ত্রাসী যুবলীগ নেতা

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ১১ নম্বর বিপুলাসার ইউনিয়ন সন্ত্রাসী যুবলীগের সভাপতি ইকবাল মাহমুদ এলাকার আওয়ামী লীগ, নিজ সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ ৪০টি পরিবারের ওপর হামলা করেছে।

গতকাল শনিবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীর একটি রেঁস্তোরায় ইকবালের নির্যাতনের শিকার হয়ে ১১টি পরিবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সেখানে পরিবারগুলোর পক্ষে অভিযোগগুলোর লিখিত বক্তব্য পড়েন একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাইকচাইল গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহ জাহান পাটোয়ারী। তিনি নিজেও ইকবালের হামলার শিকার হয়েছেন।

শাহ জাহান পাটোয়ারী বলেন, ‘ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিস উদ্বোধনের সময় আমার ওপর হামলা চালায় ইকবাল ও তার বাহিনী।’

ইকবালের বিরুদ্ধে অভিযোগ

সাইকচাইল গ্রামের বাসিন্দা ইকবাল মাহমুদ ২০১৪ সালের ১৪ আগস্ট যুবদলে যোগ দিলেও ওই বছরই যুবলীগে যোগ দেন। পরে ইউনিয়ন যুবলীগের পদ বাগিয়ে নেন। দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু করেন তিনি।

ইকবালের নেতৃত্বে তার লোকজন আওয়ামী লীগ-যুবলীগ নেতাকর্মী ও তাদের পরিবার এবং এলাকার নিরীহ লোকজনের ওপর হামলা, মারধর, বাড়ি-ঘর ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর, লুটসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সভাপতি আজাদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘ইকবাল আমাকে একাধিকবার গুলি করে মারার হুমকি দেয়। সে তার লোকজন নিয়ে আমার ওপর হামলা করে পা ভেঙে ফেলে।’

নুরুল ইসলাম নামে একজনের অভিযোগ, ইকবাল তার ছেলে ইসমাইলকে দিয়ে মাদকব্যবসা করিয়েছেন।

প্রায় একই ধরনের অভিযোগ এলাকার যুবলীগ নেতা ও প্রবাসী নজরুল ইসলাম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গাজী সালাহ উদ্দিন, আওয়ামী লীগের সদস্য মমতাজ মিয়া, রবিউলসহ আরও অনেকের।

এর মধ্যে চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল মমতাজ মিয়া ও তার তিন ছেলের ওপর হামলা ও কুপিয়ে মারাত্মক আহত করেন ইকবাল ও তার লোকজন। এ ছাড়া ইকবালের সঙ্গে যোগসাজসের কারণে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, ইকবালের নির্দেশে পুলিশ তাকে আটক করে চোখ বেঁধে ব্যাপক নির্যাতন চালায়। এমনকি তার বিরুদ্ধে এলাকায় কোনো অবস্থান নিতে পারব না বলে হুমকি দেয়।

সংবাদ সম্মেলেনে উপস্থিত হয়ে যুবলীগ নেতা ইকবালের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন সেলিম গাজী, নুর আলম, নুর হোসেন ও মো. সুজন নামে কয়েকজন গ্রামবাসী।

ইতিমধ্যে ইকবাল মাহমুদ ও তার বাহিনীর নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও জোর-জুলুমের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। এ ছাড়া ইকবালের বিরুদ্ধে থানায় এ পর্যন্ত ৮টি মামলা ও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সখ্যতার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগী গ্রামবাসীর। আমাদের সময়

মামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইকবাল বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের আছে। সেটিতে আমি জামিনে আছি।’

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন