ব্রিজের মুখ বন্ধ করে প্রভাবশালীদের মাছচাষ, ডুবছে এলাকা

0
599
ব্রিজের মুখ বন্ধ করে প্রভাবশালীদের মাছচাষ, ডুবছে এলাকা

রাজশাহীর বাগমারার বিভিন্ন রাস্তায় নির্মিত অধিকাংশ ব্রিজ ও কালভেটের মুখ বন্ধ করে দিয়ে প্রভাবশালীরা মাছচাষ করায় বন্যার পানি ঠিকমত নামতে পারছে না। এ কারণে বন্যা কবলিত এলাকা এখনো পানির নিচে ডুবে রয়েছে। ফলে দীর্ঘায়িত হচ্ছে এ উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি।

এদিকে বন্যা কবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে সর্দি জ্বর, আমাশয় ও ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ-ব্যধি। ওষুধ ও খাবার স্যালাইন সঙ্কটও প্রকট আকারে দেখা দিয়েছে। চিকিৎসার অভাবে পানিবাহিত রোগ-ব্যধি মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিলেও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মীরা গতকাল এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় যায়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন রাস্তায় নির্মিত ব্রিজ ও কালভার্টগুলোর মুখে মাটি ফেলে ও বাঁশের বানার বেড়া দিয়ে পানি চলাচল বন্ধ করে এলাকার প্রভাবশালীরা মাছ চাষ করছেন। এ কারণে বন্যার পানি নামতে পারছে না। এলাকার পানি নামার মাধ্যম ব্রিজ ও কালভার্টগুলোর মুখ বন্ধ থাকায় ঠিকমত বন্যার পানি নামতে না পারায় সোনাডাঙ্গা, দ্বীপপুর, বাসুপাড়া, বড় বিহানালী ও ঝিকরা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা এখনো বন্যা কবলিত রয়েছে। এখনো পানির নিচে ডুবে রয়েছে এ পাঁচটি ইউনিয়নের শত শত একর জমির ধান, পাট, পানবরজ ও সবজি ক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসল। হাজার হাজার মানুষ রয়েছেন পানিবন্দি। পানির প্রবল চাপে বাঁধ ও বিভিন্ন সড়ক ভেঙে যাওয়ায় ওইসব ইউনিয়নের সাথে উপজেলা ও জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। কাঁচা বাড়িঘর পড়ে যাওয়ায় আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন শত শত পরিবার। এ অবস্থায় অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছেন। বিরাজ করছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানীয়জলের তীব্র সঙ্কট।

ঝিকরা ইউনিয়নের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন আবুল অভিযোগ করে বলেন, এলাকার প্রভাবশালীরা বিভিন্ন রাস্তার ব্রিজ ও কালভার্টগুলোর মুখে বন্ধ করে দিয়ে মাছ চাষ করায় বন্যার পানি স্বাভাবিকভাবে নামতে না পারায় পানির প্রবল চাপে রোববার ভোরে বিলসুতি বিলের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে কয়েকটি গ্রাম নতুনভাবে বন্যাকবলিত হয়েছে। বন্যার পানিতে ধান, পানবরজ ও সবজি ক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে।

সোনাডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আজাহারুল হক ও দ্বীপপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান দুলাল বলেন, বন্যা কবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে সর্দি জ্বর, আমাশয় ও ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ-ব্যধি। চিকিৎসার অভাবে পানিবাহিত রোগ-ব্যধি মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিলেও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মীদের দেখা মিলেনি বন্যাকবলিত এলাকায়।

বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার গোলাম রাব্বানী বলেন, বন্যা কবলিত এলাকায় যে পরিমান রোগী আক্রান্ত হচ্ছে সেই চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ ও স্যালাইন আমাদের কাছে নেই। চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন চেয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্দ্ধতন কর্তৃক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো পৌঁছেনি। নয়া দিগন্ত

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন