উইঘুর-তুরস্ক| জোরপূর্বক ৫০,০০০ উইঘুর মুসলিমকে কমিউনিস্ট চীনের কারাগারে প্রেরণ করেছে এরদোগান

1
921
উইঘুর-তুরস্ক| জোরপূর্বক ৫০,০০০ উইঘুর মুসলিমকে কমিউনিস্ট চীনের কারাগারে প্রেরণ করেছে এরদোগান

তুরস্কে আশ্রয় নেওয়া ৫০,০০০ উইঘুর মুসলিম শরণার্থীদের জোরপূর্বক কমিউনিস্ট চীন সরকারের কারাগারে প্রেরণ করেছে তথাকথিত মানবতার ফেরিওয়ালা মিস্টার এরদোগান।

এরদোগানের প্রাক্তন সহযোগী ও প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দাভোগোগলু এক ভিডিও কনফারেন্সে জানিয়েছে, কমিউনিস্ট চীনের জবরদখকৃত পূর্ব তুর্কিস্তান থেকে নির্বাসিত হওয়ার পর তুরস্কে আশ্রয় নেয়া ৫০ হাজার উইঘুর মুসলিমকে কমিউনিস্ট চীনের কাছে হস্তান্তর করেছে এরদোগান।

উইঘুর মুসলিমদের ব্যাপারে সচেতন কিছু সংবাদ মাধ্যম দাবি করছে যে, চীনের জবরদখকৃত পূর্ব তুর্কিস্তান থেকে নির্বাসিত হওয়ার পর কয়েক লক্ষাধিক উইঘুর মুসলিম তুরস্কে আশ্রয় নিয়েছিল। যাদের মাঝে প্রায় এক লক্ষাধিক মুসলিমকে চীনের কাছে ইতিমধ্যে হস্তান্তর করেছে এরদোগান। তুরস্কে আশ্রয় নেয়া বাকি উইঘুরদেরকেও বন্দী করতে শুরু করেছে তুরস্ক। খুব শীগ্রই তাদেরকেও সেই একই ভাগ্য বরণ করতে হবে, যা প্রায় ২০ লাখ উইঘুর মুসলিমদের ভাগ্যে জুটেছিল। যাদের ভাগ্যে লিপিবদ্ধ হয়ে আছে সাম্যবাদী চীনের কারাগারে ধর্মান্তরিত ও প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হওয়া। যেমনটি আহমেদ দাভোগোগলুর তার বক্তব্যে বলেছিল।

“দ্য টেলিগ্রাফ” এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, তাজিকিস্তানের মতো তৃতীয় দেশগুলির মধ্য দিয়ে উইঘুর শরণার্থীদের চীন দেশে ফিরত পাঠাচ্ছে তুরস্ক। যার সত্যায়ন করেছে আহমেদ দাভোগোগলুর।

সংবাদ মাধ্যমটি আরো জানিয়েছে, তুরস্কের রাষ্ট্রপতি মিস্টার এরদোগান ” উইঘুর মুসলিমদেরকে চীন প্রত্যাবর্তনের আগে তৃতীয় দেশগুলোতে প্রেরণ করার মাধ্যমে চীনকে উইঘুর মুসলিমদের বন্দী করতে সহায়তা করছে”।

কয়েক দশক ধরে উইঘুর মুসলমানরা চীনের দমন নিপীড়ন ও জোর পূর্বক ধর্মান্তরিত হওয়া থেকে বাঁছতে তুরস্কে আশ্রয় নিচ্ছিলেন। তাদের অনেকেই আবারো পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন চীনের কারাগারগুলো থেকে, মিডিয়াতে দেওয়া তাদের সাক্ষাতকারগুলোতে বিভিন্ন সময় উঠে আসে নানাধরণের নির্যাতনের লোমহর্ষক ঘটনা ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার মত ঘৃণ্য অপরাধসমূহ। যেসকল কারাগারগুলিতে আটক করে রাখা হয়েছে ২০-৩০ লক্ষাধিক মজলুম উইঘুর মুসলিমদেরকে, যাদেরকে সেখানে নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় ত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

মানবতার ফেরিওয়ালা এরদোগান নিজেকে একজন বিশ্বব্যাপী ইসলামী নেতা হিসাবে পরিচয় দিলেও ইসলামের বিরুদ্ধে রয়েছে তার জগণ্যতম অপরাধনামা। যার কার্যকারিতা ঘটানো হচ্ছে আফগানিস্তান, শাম, সোমালিয়া, মালি ও নাইজারে ক্রুসেডারদের পক্ষ্য নিয়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ময়দানে। একসময় মিডিয়ার সামনে উইঘুর মুসলমানদের বিরুদ্ধে চীনা পদক্ষেপকে “গণহত্যা” বলে অভিহিত করলেও এখন সেই মুসলিমদেরকেই চীনের কাছে হস্তান্তর করছে এরদোগান।

অনেক বিশ্লেষকরা বলেছে যে সম্ভবত চীনা বিনিয়োগের জন্য আঙ্কারা অর্থনৈতিক দিক থেকে প্ররোচিত, আর একারণেই আঙ্কারা উইঘুরদেরকে চীনের কাছে হস্তান্তর করে চীনের কাছে নিজেদের একটি ভালো ইমেইজ তৈরি করতে চাচ্ছে। (যেমনটি মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগাচ্ছে এরদোগান)

“দ্য টেলিগ্রাফ” ৫৯ বছর বয়সী আইমুজি কুওয়ানের একটি ঘটনা উল্লেখ করে জানিয়েছে যে, “আইমুজি কুওয়ান” চীন ছেড়ে পালিয়ে এসে তুরস্কে অভয়ারণ্য খুঁজছিলেন এবং আশ্রয় শিবিরে অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ গত গ্রীষ্মে অদৃশ্য হয়ে যান তিনি, পরে তাকে খোঁজে পাওয়া যায় তুরস্কের “ইজমির” নগরীর একটি আটক কেন্দ্রে। আর সেখান থেকেই তাকে তাজিকিস্তানে ফিরিয়ে দেয় তুরস্ক। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের নিয়োগপ্রাপ্ত একজন আইনজীবী। উক্ত আইনজীবী আরো জানান, “কুওয়ান”কে তাজিকিস্তান থেকে চীনে প্রেরণ করা হয়েছে।

টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়, অন্য এক উইঘুর মহিলা জিন্তেগুল তুরসুনকেও গত বছর তুরস্ক থেকে তাজিকিস্তানে চীনে নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল। শুধু এখানেই ক্ষান্ত থাকেনি তুরস্ক, বরং শামে হিজরতকারী চীনে মুসলিমদেরকে ও তাদের পরিবারগুলোর অনেক সদস্যদেরকেই বিভিন্ন সময় তুরস্ক ও সিরিয়ার ইদলিব থেকে বন্দী করার পর চীনের কাছে হস্তান্তর করারও নজির রয়েছে।

উইঘুরদের বিরুদ্ধে চীনা অনুরোধ মেনে চলা তুর্কি সরকারের ব্যাপারে এটিই প্রথম কোন সংবাদ বা প্রতিবেদন নয়।

মার্কিন সরকারী গণমাধ্যম ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও মার্চ মাসে জানিয়েছিল যে, উইঘুরদের সাথে চীনা সম্পর্কের দীর্ঘদিনের সমালোচক উইঘুর শরণার্থী “আবদুর রহিম ইমন পারাচ”কে তুরস্কের পুলিশ সদস্যরা ইস্তাম্বুলে গ্রেপ্তার করেছিল। যারা “তাকে চীনের বিরুদ্ধে কথা না বলার জন্য চাপ দিয়েছিল।”

 

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন